১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৭:৫০

অস্ট্রেলিয়ার একটি লাইব্রেরিতে ১৫০ বছর পর ধার নেওয়া একটি বই ফেরত এসেছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বাসিন্দা বইটি ফেরত দেন। লাইব্রেরির নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় পর বইটি ফেরত দেওয়ায় গ্রহীতার ওপর প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইন্ডিয়ার সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স নামের বইটি গত সপ্তাহে কিয়ামা নামের সমুদ্রতীরবর্তী শহরের লাইব্রেরিতে ফেরত দেন এক ব্যক্তি। তিনি বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকানো একটি চায়ের বাক্সের মধ্যে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হবে। বইটির মলাটের ভেতরে মুদ্রিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার সময়কার প্রচলিত নিয়মাবলীর ভিত্তিতে এই জরিমানা গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত পুরোনো কোনো জিনিস আমাদের কাছে আগে কখনো ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি যেসব লাইব্রেরিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর দেরিতে ফেরত আসা জিনিসপত্র দেখা যায়। এসব বই সাধারণত পুরোনো সম্পত্তি পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মালিক কে ছিলেন, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। গ্রন্থাগারের ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার দিনলিপিটি হারিয়ে গেছে। ওই দিনলিপিতেই কে কখন কোন বই নিয়েছিল, তার হিসাব লিপিবদ্ধ থাকত।

হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।

লাইব্রেরির মূল নিয়ম অনুযায়ী, পুনরায় বই ধার করার আগে একজন ধারকারীকে বইটি ফেরত দিতে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার করতে পারত। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল, পরিবারের অন্তত ছয়জন পড়তে সক্ষম সদস্য থাকতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।

হাডসন বলেন, হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আমাদের ফেরত দেয়নি।

চিমনির কাছে কয়েক দশক পড়ে থাকার কারণে বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার বলেন, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এই বইটি ফেরত আসার জন্য আমরা আরও ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

সূত্র: এনডিটিভি

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading