ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা: জহির উদ্দিন স্বপন

ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা: জহির উদ্দিন স্বপন

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৪:২০

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা। আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এখন সময় রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন(বিপিজেএ)।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের জনগণের হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেননি। বরং তিনি সব সময় বলেছেন, এই বিজয় জনগণের। আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তারেক রহমানের দেওয়া ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’ এবং ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’ এই স্লোগানগুলো আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট রাজপথেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আর সংঘাতের রাজনীতি নয়, বরং দেশ গড়ার রাজনীতি প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক চর্চা, কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আন্দোলন কারও কাছে পেশা হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনের পর এখন উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফটোজার্নালিস্টদের ধারণ করা প্রতিটি ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দলিল হয়ে থাকবে।

শেষে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাও আমাদের সবার দায়িত্ব।

সূত্র: গালফ নিউজ

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading