৫ বছরে দুই কোটি বৃক্ষরোপণের রোডম্যাপ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

৫ বছরে দুই কোটি বৃক্ষরোপণের রোডম্যাপ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ০৮:৩৫

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ট্রি’ এবং ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৪০ লাখ এবং পাঁচ বছরে সারা দেশে অন্তত ২ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

সভায় জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ৩০০টির বেশি কলেজ এবং প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করলে বছরে প্রায় ৪০ লাখ এবং আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি বৃক্ষরোপণ সম্ভব হবে।

শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের অন্তত ৮০ শতাংশ যাতে টিকে থাকে, সে লক্ষ্যেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আধুনিক ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, জেলা ও বিভাগভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং শক্তিশালী জবাবদিহির কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত উপযোগিতা বিবেচনায় অঞ্চলভিত্তিক উপযুক্ত বৃক্ষ নির্বাচন এবং স্থান নির্ধারণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কলেজগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ইউনেস্কোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচি দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথমে নির্বাচিত কয়েকটি কলেজে পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজে সম্প্রসারণ করা হবে।

সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের পরিবেশ রক্ষা, বিরূপ জলবায়ুর প্রভাব হ্রাস এবং একটি সবুজ-টেকসই বাংলাদেশ গঠনে এটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনসহ অন্যান্যরা৷

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading