ঢাকার চারপাশের নদী নৌযান চলাচলের উপযোগী করা হবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৫:০৫
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দুই থেকে তিন মাস পর আবারও বৈঠক হবে।
তিনি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে রাজধানীর চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে আবারও ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু করা হবে।
তিনি বলেন, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রীবান্ধব হলেও অন্য অংশে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সড়কপথে যেখানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, সেখানে নদীপথে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগলে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ওয়াটার বাস পরিচালনা করেছিল। কিন্তু যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণে গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে সংস্থাটি সেবাটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো।
হাতিরঝিলের ওয়াটার বাসের সঙ্গে এ প্রকল্পের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাতিরঝিলে স্বল্প দূরত্বে যাত্রীচাপ বেশি এবং চলাচলেও তেমন প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু দীর্ঘ রুটে সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবা কার্যকর করতে হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর ওয়াটার বাস পরিচালনা করতে হবে। তবে এতে পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকলে পরিচালনাকারীদের আবারও লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
নদীদূষণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীতে দুর্গন্ধ, আবর্জনা ও দূষিত পরিবেশ থাকলে মানুষ নদীপথে ভ্রমণে আগ্রহী হবে না। তাই নদী পরিষ্কার, দুই তীরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, টঙ্গীর রেলসেতুসহ কয়েকটি নিচু সেতুর কারণে ওয়াটার বাস চলাচলে সমস্যা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সড়ক সেতু উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে রেলসেতুর ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে পুনরায় ওয়াটার বাসে ওঠার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।
আগের প্রকল্পে লোকসানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিসির ৫৭ কোটি টাকার লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস পরিচালনা করতে না পারাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আপাতত এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ওয়াটার বাস চালুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, তত দ্রুত রাজধানীর চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালু করা সম্ভব হবে।
ইউডি/কেএস

