২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কাঁপল দুবাই
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৫:৪১
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও ফুয়েল হাব জেবেল আলি শিল্পাঞ্চলে মাত্র ২০ মিনিটে অন্তত ৭টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহত বা সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ২:৪০ মিনিটে প্রথম শব্দ শোনা যায়। প্রায় ২০ মিনিটের ব্যবধানে টানা ৭টি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শিল্পাঞ্চল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ফলে রাতের আকাশে বিশাল ও ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
আমিরাতি কর্মকর্তাদের বরাতে ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত কোনো সামরিক হামলা নাকি সাধারণ শিল্প কারখানার দুর্ঘটনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই দুবাই সিভিল ডিফেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ইরাকের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং আঞ্চলিক সূত্র দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জের ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বা মূলধারার গণমাধ্যম এখনো বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জারি করেনি। তারা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা সামরিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।
এদিকে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা- নাসার থার্মাল ইমেজিং রিপোর্ট অনুযায়ী, জেবেল আলি বন্দরের ঠিক পাশে অবস্থিত একটি বিশেষ গুদামে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে, যা মূলত জ্বালানি মজুত এবং স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হতো।
অন্যদিকে দুবাইয়ের কঠোর সাইবার আইন অনুযায়ী, সংবেদনশীল বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার অপরাধে ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় জেবেল আলি বন্দর ও তার আশেপাশের লজিস্টিক জোনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আমেরিকা-ইরান সংঘাতের পটভূমিতে এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নাকি সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক হামলা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধোঁয়াশা ও পাল্টাপাল্টি দাবি তৈরি হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার জবাবে ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে থাকতে পারে।
আবার কিছু বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অংশ মনে করছেন, এটি কোনো বহিরাগত হামলা নয়। বরং গুদামের ভেতরের কোনো কারিগরি ত্রুটি বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো কোনো শিল্প দুর্ঘটনা থেকে পর পর এই ৭টি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সূত্র: প্রেসটিভি, এনডিটিভি
ইউডি/রেজা

