সরাসরি টিকিট কেটে জুলাই জাদুঘরে ঢুকতে পারবেন দর্শনার্থীরা

সরাসরি টিকিট কেটে জুলাই জাদুঘরে ঢুকতে পারবেন দর্শনার্থীরা

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫০

অনলাইনে আগাম নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াও সরাসরি টিকিট কেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সাধারণ মানুষের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করার পর থেকেই টিকিট কাউন্টারে ভিড় দেখা যায়। কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে একে একে জাদুঘরে প্রবেশ করেন শত শত দর্শনার্থী।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে আগাম নিবন্ধন ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট কিনে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন আগ্রহীরা।

উদ্বোধনের প্রথম দিনেই জাদুঘর ঘিরে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবার এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি জানতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় করেন। টিকিট সংগ্রহের পর নির্ধারিত নিয়ম মেনে তারা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ জন দর্শনার্থী জাদুঘরে প্রবেশ করেছেন। তবে এটি তাৎক্ষণিক একটি ধারণাভিত্তিক সংখ্যা। এখন পর্যন্ত মোট কতজন দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত হিসাব তখনও প্রস্তুত হয়নি।

দর্শনার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। সরাসরি টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করায় প্রবেশ প্রক্রিয়াও সহজ হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

রায়হান মিয়া বলেন, আমি অনলাইনে কোনো টিকিট কাটিনি। সরাসরি জাদুঘরে এসে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছি। এতে কোনো ঝামেলা হয়নি। খুব সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি, আলোকচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শনগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। নতুন প্রজন্মের ইতিহাস জানার জন্য এমন একটি জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ঐতিহাসিক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরাই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।

এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সেদিন শুধু জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের সুযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রথম দিনেই মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading