কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলায় মৃত্যু ২০০০ ছাড়াল

কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলায় মৃত্যু ২০০০ ছাড়াল

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৭:২০

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন আরও চার হাজারের বেশি মানুষ। মঙ্গলবার কঙ্গোর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইবোলা ভাইরাসে কঙ্গোতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ১১ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, কঙ্গোর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড; যা দেশটিতে মৃত্যুর মর্মান্তিক মাইলফলক তৈরি করেছে।

কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশটির পাঁচটি প্রদেশজুড়ে এই ভাইরাসে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে। দেরীতে শনাক্ত, সংঘাত এবং বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে দেশটিতে অতীতের প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবার এই ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

কঙ্গোতে ১৭তম এই প্রাদুর্ভাব ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির কারণে ঘটেছে। আর এই প্রজাতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী অনুমোদিত কোনো টিকা কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ভাইরাসটি ইতোমধ্যে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

গত মাসে সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ইতুরি প্রদেশে গত জানুয়ারি বা তারও আগে সংক্রমণ শুরু হয়ে থাকতে পারে। এতে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে গত ১৫ মের মাঝে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের শরীরে ইবোলার সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

দেশটিতে চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি এবং উপদ্রুত এলাকাগুলোর অনিরাপদ পরিস্থিতি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, রোগীদের আইসোলেশন ও সংক্রমণ রোধের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গিনি, লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত ও ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। সেই সময়ের তুলনায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলা হচ্ছে।

ওই সময় ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর মর্মান্তিক মাইলফলক ছুঁতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল। সেখানে কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে মৃত্যু ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কঙ্গোয় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ২ হাজার মানুষের মৃত্যুতে পৌঁছাতে ১২ মাসের কিছু বেশি সময় লেগেছিল। বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এক মাসেরও কম সময়ে মৃত্যু ১ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজারে পৌঁছেছে; যা ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading