বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘বক্স ক্র্যাব’

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘বক্স ক্র্যাব’

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫২

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে অদ্ভুত আকৃতির বিরল সামুদ্রিক কাঁকড়া ‘বক্স ক্রাব’। যা স্থানীয়ভাবে ‘লজ্জাবতী কাঁকড়া’ নামেও পরিচিত। কাঁকড়াটিকে ঘিরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ শিকার করে মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফেরে ইলিয়াশ মাঝির মাছধরা ট্রলার। অন্যান্য মাছের সঙ্গে জেলেদের জালে উঠে আসে অস্বাভাবিক আকৃতির ওই কাঁকড়াটি। পরে সেটি মহিপুরের আখি ফিস নামের একটি মাছের আড়তে নিয়ে আসা হয়।

তবে বক্স ক্রাবটি খাওয়ার উপযোগী কি না এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। পরে জেলেরা কাঁকড়াটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।

আখি ফিসের ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এ ধরনের কাঁকড়া সাধারণত এখানে দেখা যায় না। তাই জেলেদের মধ্যে এটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় বক্স ক্রাবের আকৃতি বেশ ভিন্ন। এর খোলস গোল ও চওড়া, ওপরের অংশ অনেকটা গম্বুজের মতো উঁচু এবং শক্ত। খোলসজুড়ে রয়েছে কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ। পাশাপাশি এর দুটি দাঁড়া তুলনামূলকভাবে বড় ও মোটা, যা প্রজাতিটিকে অন্য কাঁকড়া থেকে সহজেই আলাদা করে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এ প্রজাতির দেখা মেলে। সাধারণত বালুময় ও কাদাময় নরম সমুদ্রতল এবং কখনো প্রবাল প্রাচীর-সংলগ্ন এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের বিচরণ।

তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বক্স ক্রাব সচরাচর দেখা যায় না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি অপরিচিত হওয়ায় সাধারণত খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের প্রচলনও নেই। তবে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে এ কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বক্স ক্রাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত শক্ত ও প্রশস্ত দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনে ভাঁজ করে কাঁকড়াটি অনেকটা মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ প্রজাতির উপস্থিতি রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বক্স ক্রাব খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশের উপকূলে এটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। এমন সামুদ্রিক প্রাণী উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া গেলে শুধু আহরণ বা বিক্রির বিষয় হিসেবে না দেখে এর প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউডি/কেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading