৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া ‘নব্য জেএমবির বোমারু মামুন’ নাটের গুরু?

৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া ‘নব্য জেএমবির বোমারু মামুন’ নাটের গুরু?

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (১২ আগস্ট) ২০২৬, আপডেট ২২:০০

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ নামে একজনকে পুলিশ খুঁজছে, যিনি নয় বছর আগে জঙ্গিবাদের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েও ৫ অগাস্টের পর জামিনে বেরিয়ে যান।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য মামুন মাত্র ২১ বছর বয়সেই বোমা বানানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ‘তার বানানো’ বোমার আত্মঘাতি বিস্ফোরণে ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘হোটেল ওলিও’ মামলায় মামুনসহ সব আসামিকেই খালাস দেয় ঢাকার একটি আদালত। ওই রায়ে আদালত তাদের ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী’ হিসেবে বর্ণনা করে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী বলছেন, মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামের যে যুবককে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার গুরু হচ্ছে ‘বোমারু মামুন’।

“আরিফের বয়স ২৬ বছরের মত। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার গুরু নাজমুল হাসান মামুনকে ধরতে এখনো চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ এখন বলছে, সম্প্রতি যে কয়টি বোমা পাওয়া গেছে ও বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেসবের ‘নাটের গুরু’ হচ্ছে এই মামুন।

গত ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামুন ও তার শিষ্য আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

তখন থেকেই মামুনকে খুঁজছিল পুলিশ। এরপর গত জুলাইতে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে প্রেশার কুকার বোমা ফেলে রাখার ঘটনাতেও মামুন-আরিফরা জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য।

সবশেষ বুধবার সকালে সাভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে নীল রঙের ড্রামটি সেখানে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়েছিল।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সাভারের শ্যামপুরের তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যাা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে।

সে সময় ওই বাড়ি থেকে বেশ কিছু পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading