মৎস্য চাষ-আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৭:২২
বিশ্বে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মৎস্য চাষ ও আহরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। পরিকল্পিতভাবে এ খাতের উন্নয়ন করা গেলে বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদন ও আহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানেন, মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষের উন্নয়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাত হাজার ৫০০ ঘেরে উৎপাদন গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাত হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষের উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম্প সিটি মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু চিংড়ি নয়, বাংলাদেশের ঐতিহ্য ইলিশ মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ বা অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত।
তিনি জানান, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ, যা দেশের জিডিপিতে এক শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে। ২০০৩-০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। পরে মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) তুলে দেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল ৪টায় পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইউডি/রেজা

