রো‌হিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান কানাডার

রো‌হিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান কানাডার

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১২:৩০

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কানাডা। একই সঙ্গে দেশটি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

রো‌হিঙ্গা ঢ‌লের নবম বার্ষিকীতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মিয়ানমারে কানাডার দূতাবাস এবং বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশন এক যৌথ বিবৃতিতে এ উ‌দ্বেগ জা‌নিয়েছে।

বিবৃ‌তি‌তে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানের পর প্রায় সাত হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হন এবং প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকট হিসেবে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এই অঞ্চলজুড়ে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

বিবৃতিতে উ‌ল্লেখ করা হয়, রাখাইন রাজ্যসহ পুরো মিয়ানমারে মানবাধিকার ও মানবিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সংঘাত বৃদ্ধি, বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর জোরপূর্বক শ্রম ও নিয়োগের মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ বর্তমানে অনুপস্থিত। রোহিঙ্গারা এখনো রাষ্ট্রহীন এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ছয় হাজার ৫০০ এর বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ পথে মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, যা সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর একটি। জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সংকুচিত হওয়া, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার কারণে এ ধরনের অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ছে।

বিবৃ‌তি‌তে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় তারা ৭০০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

বিবৃতিতে সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ, দেশজুড়ে অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কানাডা মিয়ানমার সংকট সমাধানে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা, পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কানাডা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading