জামানতের মূল্য বাড়িয়ে ঋণ নেওয়া ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১২:৩৭
জামানতের মূল্য কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে ঋণ নেওয়া, বেনামি ও ভুয়া ঋণ এবং এক খাতের নামে নেওয়া অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার মতো জালিয়াতি ঠেকাতে বড় ঋণের ব্যবহার তদারকিতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আওতায় ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের ঋণ বিতরণের পর সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে বাধ্যতামূলক অডিট করাতে হবে। অডিট প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।
ব্যাংকিং পরিভাষায় ‘অ্যান্ড ইউজ মনিটরিং’ বা ঋণের শেষ ব্যবহার তদারকির জন্য শিগগিরই এ-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। তৃতীয় পক্ষের অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, দেশে উচ্চ খেলাপি ঋণের অন্যতম কারণ বেনামি ও ভুয়া ঋণ। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে।
এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার, ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে জমি কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ঋণের ব্যবহার তদারকিতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। ভারতে বড় ঋণ বিতরণের পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্মের মাধ্যমে ‘ইউটিলাইজেশন রিপোর্ট’ নেওয়া হয়। কোনো ঋণের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার সন্দেহ হলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ফরেনসিক অডিটও করানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এরইমধ্যে বড় ঋণের গ্রাহক ও ঋণের সঠিক ব্যবহার যাচাইয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গত মে মাসে প্রতিটি ব্যাংকের কাছ থেকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ ও পুনঃতফসিল করা ২০ কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের ঋণের তথ্য নেওয়া হয়। যাচাইয়ে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংক থেকে বেনামি ঋণ দেওয়ার একটি ঘটনা শনাক্ত হয়।
এছাড়া প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই বড় ঋণ পুনঃতফসিল এবং পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার ঘটনাও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাত এখন উভয় সংকটে রয়েছে। একদিকে গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর হাতে রেকর্ড চার লাখ আট হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন।
এদিকে ২০২৫ সাল শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। নতুন করে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতেই বড় ঋণ বিতরণ ও ব্যবহারে কঠোরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ইউডি/কেএস

