৩ বার কারাবরণ, ৪ বার গুলিবিদ্ধ—কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় ইশরাক

৩ বার কারাবরণ, ৪ বার গুলিবিদ্ধ—কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় ইশরাক

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৪:১৯

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজপথের ত্যাগ, সংগ্রাম, হামলা-মামলা, কারাবরণ ও একাধিকবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে জোর আলোচনায় রয়েছেন বোরহান উদ্দিন ইশরাক।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক এই সফল সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রচার সম্পাদক তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য এবং কর্মীবান্ধব দক্ষতাকে সামনে রেখে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন।

২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পতাকাতলে যুক্ত হন ইশরাক। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সম্মুখসারিতে থাকা এই লড়াকু ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪টি মামলা দায়ের করা হয়।

রাজপথে ৪ বার গুলিবিদ্ধ ইশরাক

স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে দলের কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ৪ বার গুলিবিদ্ধ হন বোরহান উদ্দিন ইশরাক।

প্রথমবার—২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত ছাত্রদলের কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি।

দ্বিতীয়বার—২৯ জুলাই ২০২৩: নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজপথের অবস্থান কর্মসূচিতে রাজধানীর মাতুয়াইলে আন্দোলন চলাকালে আবারও গুলিবিদ্ধ হন ইশরাক।

তৃতীয়বার—২৮ অক্টোবর ২০২৩: নয়াপল্টনে বিএনপির একদফার মহাসমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণের সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

সবশেষ—১৯ জুলাই ২০২৪: জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে স্বৈরাচার পতনের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথের সহযোদ্ধা ও ছোট ভাইদের সঙ্গে নিয়ে প্রথম থেকে ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন ইশরাক। এ আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই কাকরাইল মোড়ে সম্মুখসংগ্রামে অংশ নিয়ে তিনি আবারও গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন।

৩ দফায় কারাভোগ ইশরাক

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রাজপথের লড়াই চালাতে গিয়ে তিনি ৩ দফায় প্রায় ৯ মাস কারাভোগ করেছেন।

প্রথমবার—২৮ ডিসেম্বর ২০১৭: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরার কর্মসূচি থেকে হাইকোর্টের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।

দ্বিতীয়বার—১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: কারামুক্তির পরপরই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কাশিমপুর কারাগারের ফটক থেকে নতুন করে মিথ্যা মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তৃতীয়বার—২৮ জুন ২০২১: কাকরাইলে বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেপ্তার করে রমনা থানার মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে প্রায় ৩ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান তিনি।

রিমান্ড ও বর্বর নির্যাতন

গ্রেপ্তার ও কারাভোগ অতিক্রম করার পাশাপাশি একাধিকবার রিমান্ডের মুখোমুখি হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এই ছাত্রনেতাকে। বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে তাঁর ওপর চালানো হয় অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

কারাভোগ ও গুলির ক্ষত বহন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজপথে বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ইশরাক। এর মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (প্রেসক্লাব এলাকা), ৭ ডিসেম্বর ২০২২ (নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে) এবং ২০ অক্টোবর ২০২৩ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা) উল্লেখযোগ্য।

নেতৃত্বের শক্তিশালী দাবিদার, প্রত্যাশা তৃণমূলের

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ইশরাক ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার পাশাপাশি রাজপথের প্রতিটি লড়াইয়ে ছোট ভাই ও সহযোদ্ধাদের আগলে রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসহ সকল লড়াইয়ে রাজপথে ভূমিকা রাখা এবং সংকটকালে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগ্য দাবিদার হিসেবে তাঁর নাম উঠে আসছে।

রাজপথের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় সংসদে জায়গা পেলে সংগঠন আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এবং অনন্য সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে তাঁকে যোগ্য পদে মূল্যায়ন করা হবে এমনটাই জোর দাবি তৃণমূলের।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading