স্কুল ফিডিং ৬৫ হাজার গ্রামে শুরু হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৮:৪৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং (পুষ্টিকর টিফিন) কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের ৬৫ হাজার গ্রামে স্কুল ফিডিং ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ কর্ম দিবসে ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমী ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ তথা পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সকল শিশু স্কুলে যাবে। শিশুরা শিক্ষিত হবে। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্ডিয়ার তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এ কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প শুরু হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া। মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে অনিয়ম কমেছে উল্লেখ করে তিনি মায়েদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের নানা প্রতিকূলতা বিবেচনা করে দুর্গম ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর (মডুলার বিল্ডিং) মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা, শিক্ষক, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/রেজা

