নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে : সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে : সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৮:১৬

বর্তমান সরকারের স্বাবলম্বী ও সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির সুবাদে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিগত ১৫ বছরের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে দেশের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা’ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈদেশিক মিশনগুলোর সার্বিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সফল ও সুদূরপ্রসারী পররাষ্ট্রনীতির বদৌলতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব মেরুদণ্ড সোজা করে এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জন করেছে। এই দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুসংগঠিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর পারফরম্যান্স এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়ে এক সংসদ সদস্যের মূল্যবান প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, শ্রমিক রপ্তানি বাড়ানো কিংবা সর্বাধিক বাণিজ্য বিনিময়ে সফল মিশনগুলোর জন্য বর্তমানে কোনো বিশেষ ‘রিওয়ার্ড ব্যবস্থা’ বা পুরস্কার পদ্ধতি চালু রয়েছে কি না তা পর্যালোচনার বিষয়।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর জুড়ে যে দুঃশাসন চলেছিল, তাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনগুলো কার্যত বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সে সময় দূতাবাসগুলোর সার্বিক কার্যক্রম, প্রবাসীদের সেবা দেওয়া এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার ব্যাপারে পূর্ববর্তী সরকারের কোনো আগ্রহ বা কার্যকর তদারকি দৃশ্যমান ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই স্থবির ও অকার্যকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছে।

কূটনৈতিক মিশনগুলোর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান মূল্যায়নে সরকার ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে। এই কেপিআই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান ও গ্রেডিং নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় বাজেট পেশের সময় প্রতিটি দূতাবাসের সাফল্য, ব্যর্থতা ও কাজের হালনাগাদ তথ্য সংসদ সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে, কারণ এ সকল তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার সংসদ সদস্যদের রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের আয়তন, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বের তুলনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে সংসদে স্বীকার করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট আলোচনায় ইতোপূর্বেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় বাজেট বৃদ্ধি ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading