ইরানের সঙ্গে লেনদেন, আরও একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে আমেরিকা

ইরানের সঙ্গে লেনদেন, আরও একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে আমেরিকা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৩:১৫

ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধে চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করেছে দেশটি। তবে কোন ব্যাংককে লক্ষ্য করে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, তা প্রকাশ করেননি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

রবিবার আমেরিকার নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে জি-২০-এর বৈঠকের আগে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বেসেন্ট। তিনি জানান, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

বেসেন্ট বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরানের সঙ্গে যেসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থা লেনদেন করছে, তাদের পরিচয় আমেরিকার জানা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এসব লেনদেন বন্ধ করতেই হবে।

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটন এখন সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

এর আগে শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক বানক মিসরের সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখাগুলোকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখার বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। ইরানের সঙ্গে ওই ব্যাংকের লেনদেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে এবার যে ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, তার নাম বেসেন্ট জানাননি।

ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা চীনের বিষয়েও জি-২০ বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কারণে প্রয়োজনে চীনের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

বেসেন্ট বলেন, চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলবেন। তবে চীনকে মোকাবিলায় আমেরিকা অনিচ্ছুক—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে কিছুটা অভিন্ন অবস্থান রয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও আবার বেড়েছে। রবিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। প্রায় এক মাসের বিরতির পর এটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের সূচনা করে।

ইরান এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নতুন অর্থনৈতিক অভিযানের লক্ষ্য দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সংকুচিত করা। এর আগে মার্কিন প্রশাসন এই উদ্যোগকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে চীন ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশটি অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হচ্ছে এসব লেনদেনের আর্থিক পথগুলো বন্ধ করা।

বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

সূত্র: এপি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading