ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির বৈঠক

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির বৈঠক

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৮:১৫

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি বৈঠক।

সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এছাড়াও উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ সহযোগিতা জোরদার ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন?
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময়েই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। নয়াদিল্লি ইরানের শীর্ষ দশটি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলেও, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে।

বৈঠকে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মোদিকে স্পষ্ট করে জানান, ‘ইরান কোনোভাবেই যুদ্ধ চায় না। তবে আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে তার দেশ উপযুক্ত জবাব দেবে’।

পরিস্থিতির অবনতির জন্য আমেরিকার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন দায়ী করে ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ‘এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা সকল দেশের জন্যই ক্ষতিকর। ফলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই’।

অন্যদিকে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোদি আবারও সব ধরনের বিরোধ ও সংকট আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মোদি বলেন, ‘যেকোনো আঞ্চলিক বিরোধের সমাধান অবশ্যই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত’।

প্রসঙ্গত, ইন্ডিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সংযোগের পাশাপাশি ইরানের চাবাহার বন্দর ইন্ডিয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকটি নয়াদিল্লির কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পুতিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন মোদি
এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিযেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মোদি। এছাড়াও কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব নোম্যাড গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading