সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, চড়া মাছ-মাংসের দাম

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, চড়া মাছ-মাংসের দাম

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১২:২৫

রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে, জালি ও পেঁপেসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে বেগুন, টমেটো ও শিম এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমলেও সামগ্রিক বাজার খরচে খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার,বাবু বাজার ও কাওরান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে কম দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপের দাম ৩০ টাকা। এ ছাড়া পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনো বেশ চড়া। বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে শিম। বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে।

সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা নাসির হোসেন বলেন, সরবরাহ ভালো থাকায় বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। কিন্তু বেগুন ও টমেটো পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই এগুলোর দামও বেশি।

একই বাজারে বাজার করতে আসা জুয়েল আহমেদ বলেন, কিছু সবজির দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু সব মিলিয়ে বাজারের ব্যয় খুব একটা কমেনি।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ-মাংসের বাজারে সেই স্বস্তির ছাপ নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও আগের মতই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা এবং হালি ৫০ টাকা দরে।

কাপ্তান বাজারের ডিম বিক্রেতা মাসুদ রহমান বলেন, ফার্মের মুরগির ডিম এখন ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করছি। পাইকারি বাজারে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব।

মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুযায়ী ১২০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুণতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

কাপ্তান বাজারের মাছ বিক্রেতা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, মাছের দাম আড়তের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। আড়তে দাম বেশি থাকলে খুচরা বাজারেও দাম বেশি হয়। এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। সীমিত লাভে বিক্রি করলেও দাম বেশি মনে হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। কিছু মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ভালো মানের মাছ কিনতে গেলে দাম অনেক বেশি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ কিনতে গিয়ে বাজেটের মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading