স্থানীয় নির্বাচনে মিছিল, পোস্টার ও এআই কনটেন্টে থাকবে নিষেধাজ্ঞা

স্থানীয় নির্বাচনে মিছিল, পোস্টার ও এআই কনটেন্টে থাকবে নিষেধাজ্ঞা

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৩:০৯

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের ধরন ও পরিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধিতে মিছিল, পোস্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাতিল করে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

নতুন বিধিমালায় কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি এলাকায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট, মেট্রোরেলের পিলার ও ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচার সামগ্রী লাগানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ভোটার আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না।

নতুন আচরণবিধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে, সে বিষয়ে আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।

প্রচারে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ তথ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসা রটানো যাবে না। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহারের সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে ইসি। দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার করা যাবে না। শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। একই ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

প্রচারে বিলবোর্ড ব্যবহার করা গেলেও এর আকার ও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একটি বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন হবে ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট। একজন প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এমন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে না, যাতে জনসাধারণের চলাচল, যানবাহন চলাচল বা পরিবেশের ক্ষতি হয়।

অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। প্রার্থীর পক্ষে সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ।

কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থী ছাড়া কোনো স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিও নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, প্রতীক ও ভোট দেওয়ার সময় সংক্রান্ত তথ্য রাখা যাবে। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে ভোটার বিভ্রান্ত হন।

পাশাপাশি পেশিশক্তির ব্যবহার, কুৎসা রটানো, ধর্মের অপব্যবহার এবং স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সভা আয়োজনের ক্ষেত্রেও পুলিশের পূর্বানুমতির বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে। কোনো মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে।

এ ছাড়া আচরণবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading