দিল্লির ধসে পড়া সেই বাড়ির মালিক রাজস্থান থেকে গ্রেফতার
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৬:৫৯
ইন্ডিয়ার রাজধানী দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে ভেঙে পড়া সেই পাঁচতলা মেসবাড়ির মালিক হরিরাম বনসলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ওই ঘটনায় শিক্ষার্থী-সহ সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। দিল্লি হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয় সোমবারই (৭ সেপ্টেম্বর)।
বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হবে। মৃতদের পরিবারকে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী।
সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তও নিশ্চিত করতে বলেছেন। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিক হরিরামের খোঁজ চলছিল। সোমবার রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মেসবাড়ি ভেঙে পড়া নিয়ে সোমবার উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অনিকেত কুমার গুপ্ত নামের একজন। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লিতে যত এমন ‘পেইং গেস্ট’ বা হস্টেল ভবন রয়েছে, সর্বত্র অবিলম্বে পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করতে হবে। নিয়মিত এই ধরনের যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করা দরকার বলেও দাবি করেছেন মামলাকারী।
দিল্লির ভবনটি ভেঙে পড়ার নেপথ্যে প্রাথমিক ভাবে বেসমেন্টের সংস্কারের কাজকেই দায়ী করা হচ্ছে। অভিযোগ, এলাকায় দু’তিন দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল। বেসমেন্টে পানিও জমে গিয়েছিল। তবু সংস্কারের কাজ থামানো হয়নি।
বেসমেন্টের একটি দেওয়াল ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। মামলাকারী আদালতে জানান, এই ধরনের ভবনে বেসমেন্টে কাজ কতটা বৈধ, তার অনুমোদন ছিল কি-না, দেখা দরকার।
ভবনের মালিক, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংস্কারের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত সোমবার জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজ, হস্টেল, মেসবাড়ি, হাসপাতাল, নার্সিং হোম-সহ জনস্বার্থে ব্যবহৃত যত ভবন দিল্লিতে রয়েছে, নিয়মিত তার নিরাপত্তা যাচাইয়ের নতুন নীতি আসছে।
এ বিষয়ে দিল্লি পৌরসভার সঙ্গে একত্রে কাজ করবে সরকার। প্রত্যেক ভবনে নিরাপত্তার শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
রেখা বলেন, অসুরক্ষিত পেইং গেস্ট বা হস্টেল ভবনে আমরা কাউকে থাকতে দেব না। চাণক্যপুরীর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, সরকারি কোনও কর্মী বা কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলেও তা বরদাস্ত করা হবে না, জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।
ইউডি/রেজা

