ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেই কমবে জ্বালানির দাম, আশা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেই কমবে জ্বালানির দাম, আশা ট্রাম্পের

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১০:০৫

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আমেরিকার পাম্পে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম ৩ ডলারে নেমে আসতে পারে। পরে তা ২ ডলারের নিচেও চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকার পাম্পে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারে নামবে এবং পরবর্তী সময়ে তা ২ ডলারের নিচে চলে যেতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার তেল থাকে।

তেলের দাম দ্রুত কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না’।

ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আমেরিকার নাগরিকদের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির পাম্পগুলোয় ডিজেলের দামও সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আমেরিকায় ট্রাক, ট্রেন, নৌযান ও বাসের মতো বাণিজ্যিক পরিবহনের পাশাপাশি কৃষি ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও উৎপাদন খাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, আমেরিকায় বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এ দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার।

এবারের ডিজেলের দাম ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সময়ের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই পাইকারি বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে আমেরিকার নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গেও বড় একটি তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, গত শনিবার দুই দেশের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। এসব ক্ষেত্রে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে।

প্রকল্পটিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা কর বাবদ ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading