সব ব্যাংকারের শিক্ষা সনদ পুনর্যাচাইয়ের কড়া নির্দেশ

সব ব্যাংকারের শিক্ষা সনদ পুনর্যাচাইয়ের কড়া নির্দেশ

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০

দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও করপোরেট সুশাসন ফেরাতে এবং মেধার মূল্যায়নে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ধরনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়া বেসরকারি বা সরকারি ব্যাংকের কোনো প্রাথমিক (এন্ট্রি) পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে ব্যাংকে বর্তমানে কর্মরত সব পুরোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট থেকে সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া শতভাগ শেষ করতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত ‘বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৮’ জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব এন্ট্রি পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না-যেমন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, প্রবেশনাল অফিসার, সিনিয়র অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়ার অফিসার কিংবা ক্যাশ অফিসার-সেসব পদের নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এখন থেকে শুধু ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্মে নোটিশ দিলেই চলবে না; দেশের অন্তত দুটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সশরীরে বা অনলাইন অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে লিখিত বা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার পাশাপাশি অবশ্যই মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে। এসব পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে গঠিত মেধা তালিকার বাইরে কাউকে চাকরি দেওয়া যাবে না। অভিজ্ঞদের উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংকে কর্মরত কর্মীদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চাকরি চলাকালীন পদোন্নতি বা যেকোনো আর্থিক ও অ-আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জমা দেওয়া নতুন কোনো শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করেই কেবল ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করা যাবে। পরামর্শক বা উপদেষ্টা ছাড়া অন্যান্য সব চুক্তিভিত্তিক পদে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক।

তবে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের উচ্চতর পদে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ব্যাংক যদি ছাড়পত্রে (রিলিজ অর্ডার) সনদ যাচাইয়ের স্পষ্ট প্রত্যয়ন দেয়, তবে নতুন ব্যাংকে পুনরায় সনদ পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।

নিয়োগের সময় কিংবা চাকরি চলাকালীন কোনো কর্মকর্তার সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হলে ব্যাংককে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সিএমএমএস’ ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে তিনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংকে যোগ দিতে না পারেন।

আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদিত একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে হবে।

এই নীতিমালায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন (কেপিআই), জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, রাজকীয় অবকাশ ও অবসর, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত নিরসন, হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশসহ সুনির্দিষ্ট ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading