বন্যায় নিহতদের স্মরণে নেপালে রাষ্ট্রীয় শোক পালন
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৪:৪৯
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ১৩ দিন পরও শোক কাটেনি। সোমবার বন্যায় নিহতদের স্মরণে নেপালে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বিদেশিরাও আছেন।
প্রধানত হিন্দু অধ্যুষিত নেপালে স্বজন হারানোর পর ১৩ দিন ধরে শোক পালনের রীতি রয়েছে। এই সময়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং আত্মীয়স্বজন তাদের সমবেদনা জানাতে আসেন। ১৩তম দিনে মৃতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।
নিখোঁজ স্বজনদের অনেক পরিবার মরদেহ না পেলেও প্রতীকীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, প্রিয়জনের মরদেহ না পাওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পরিবারগুলোকে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে সরকারের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের পাশাপাশি ইন্ডিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞ দল অংশ নিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সুড়ঙ্গে তল্লাশি চালাচ্ছেন তারা। শুক্রবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার সেখান থেকে এক চীনা নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এখনো বহু নিখোঁজের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
ইউডি/রেজা

