মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনার সংখ্যা কমিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আমেরিকার

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনার সংখ্যা কমিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আমেরিকার

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৬:০৩

ইরান যুদ্ধ যদি সফলভাবে শেষ করা যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সেনা ও সামরিক অবকাঠামো কমিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। এ ব্যাপারে দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে নিরব আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে মার্কিনিরা। ওই অঞ্চলে তারা স্থায়ী ঘাঁটি ও গোয়েন্দা কেন্দ্র স্থাপন করে। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ ও অন্যান্য দেশে হামলা করা। মার্কিন সেনারা তখন ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন এবং লিবিয়াতে যুদ্ধ করেছে।

তবে ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যের এসব স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য হামলা হয়নি। কিন্তু ইরান যুদ্ধ এগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে। মার্কিনিদের এসব অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমেরিকার ১৮ সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরাকে যখন আমেরিকা হামলা চালায় তখন মধ্যপাচ্যে তারা ২ লাখ ৫০ হাজার সেনাকে জড়ো করেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এ সংখ্যা কমার মধ্যে ছিল। তবে এটি কখনো এক লাখের নিচে যায়নি।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার সেনা, দুটি রণতরী এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ রয়েছে আমেরিকার।

যেসব কর্মকর্তা এ নিয়ে নিরব আলোচনা করছেন তাদের একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে সেনার সংখ্যা এমন জায়গায় নিয়ে আসার কথা ভাবছেন তারা। ট্রাম্প হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা সরানোর পক্ষে কথা বলেছিলেন।

এরসঙ্গে যেসব সেনা মধ্যপ্রাচ্যে থেকে যাবে তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও নতুন করে ভাবা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছু অবকাঠামো মাটির নিচে স্থাপনের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। যেন মিসাইল ও ড্রোনের আঘাতে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তীব্র যুদ্ধ চলার সময় সিআইএ-এর যেসব কর্মকর্তা ছিলেন তাদের অনেকে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আবারও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

এদিকে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর সেনার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা অনেকদিনই করা হচ্ছিল। এখন ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে সেটি সফল করার আরেকটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

সূত্র: সিএনএন

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading