ডিআরইউ আমাদের আশ্রয়ের জায়গা ছিল: রিজভী
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৫:২৭
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নানা সময়ে দলীয় কার্যালয়ে যখন আশ্রয় ছিল না, তখন মনে করতাম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আমাদের একটি আশ্রয়ের জায়গা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী আক্রমণের কারণে স্পেসগুলো এত সংকুচিত হচ্ছিল। সেই সময় যারা বিরোধী মত প্রকাশ করতেন, তাদের কোনো জায়গা ছিল না। কোথায় যাবে, কোথায় বলবে, সেই জায়গা ছিল না। সেটা কিছুটা ছিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।
প্রেস ক্লাবে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনের সময় প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে আমি গ্রেপ্তার হই। পরে জানতে পারি, যারা সেই সময় প্রেস ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন তাদের নির্দেশে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা আমি শুনেছি, তবে জানি না কতটুকু সত্য।
তিনি বলেন, একসময় যেই প্রেসক্লাব ছিল ভিন্ন মত পোষণকারীদের আশ্রয়ের জায়গা। সেই প্রেসক্লাব হয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিবাদের আশ্রয়কেন্দ্র।
রিজভী বলেন, আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করেছিলাম, যে সময় ছিল ঘোর কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকার সময়। গণতন্ত্রের ন্যূনতম মূল্যবোধগুলো তারা কখনোই রক্ষা করেনি।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৭৩ সালের ঘটনার একটি কথা বলি। তখন দ্বিতীয় শক্তিশালী ব্যক্তির নাম আপনারা জানেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের পরে শক্তিশালী ব্যক্তির নামটি ছিল শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি এক বক্তৃতায় বলেছিলেন যে, আমি ভায়োলেন্সে বিশ্বাস করি।
রিজভী বলেন, ৭৫-এ বাকশাল করা, সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া, কথা বলা স্তব্ধ করে দেওয়া এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়াটি আমরা নতুন সংস্করণ দেখেছি গত ১৭ বছর।
তিনি বলেন, অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের। আর যারা এর বাইরে চেষ্টা করেছেন, তাদের ভয়ভীতির শিকার হতে হয়েছে, না হলে কারাগারে থাকতে হয়েছে।
মিডিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, মিডিয়াগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
ইউডি/কেএস

