যে কারণে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে হেরে গেল ইন্ডিয়ার বিপক্ষে
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১২:৪৫
ইন্ডিয়াকে সেমিফাইনালে আটকে রাখার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। শুরুতেই স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিল বাঘিনীরা। কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়নি, পরে ব্যাটিংয়েও এল একের পর এক ব্যর্থতা। শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়ার কাছে ৪০ রানের হার নিয়ে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশের। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির চোখে, এই হারের মূল কারণ একটাই, ব্যাটিং ব্যর্থতা। তবে বাস্তবতা বলছে, ফিল্ডিংয়ের ভুল কম ভোগায়নি বাংলাদেশকে।
দুবাইয়ে টস জিতে ইন্ডিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই স্মৃতি মান্ধানাকে ফেরান সুলতানা খাতুন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়। সবচেয়ে বড় আফসোস ওপেনার শেফালি ভার্মা একাধিকবার সুযোগ পেয়েছেন। দ্বিতীয় ওভারে লং অনে সহজ ক্যাচের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। পরে আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে শেফালি শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৬৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসেই মূলত ভারত পেয়ে যায় বড় ভিত। ভারত শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৪৯ রান করে।
অবশ্য জ্যোতির মতে, বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল ইন্ডিয়াকে আরও কম রানে আটকে রাখা। তিনি বলেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি… তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’
অর্থাৎ বোলারদের পুরোপুরি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং তাঁর মতে, মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ীই বল করেছেন। ইন্ডিয়ার ইনিংসের শেষ দিকে অবশ্য হারমনপ্রীত কৌর, রিচা ঘোষ ও দীপ্তি শর্মার ব্যাটে প্রয়োজনীয় গতি পেয়ে যায় ইন্ডিয়া। শেষ পাঁচ ওভারে তারা যোগ করে গুরুত্বপূর্ণ রান।
তারপর বাংলাদেশের সামনে ছিল ১৫০ রানের লক্ষ্য। কিন্তু সেই রান তাড়ায় শুরু থেকেই ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। জুইরিয়া ফেরদৌস ১৪, দিলারা আক্তার ২১, সোবহানা মোস্তারি ১৮ এবং জ্যোতি নিজে ১৯ রান করেন। একের পর এক উইকেট পড়েছে, কিন্তু বড় কোনো জুটি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এই জায়গাটাকেই সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করছেন জ্যোতি, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’
তবে উইকেটকেও পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধব মনে করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। জ্যোতির বলেন, ‘বোলাররা গত ৩ ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। উইকেট অবশ্য একটু ধীর গতির ছিল। ব্যাট করার জন্য এত সহজ ছিল না।’
মজার ব্যাপার, যে ফিল্ডিংয়ের কারণে ম্যাচ হারতে হলো বাংলাদেশেকে, সেই ব্যাপারে খুব একটা অভিযোগ নেই জ্যোতির, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ইন্ডিয়া অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষদিকে অনেক রান তুলেছে।’
ম্যাচের কিছু ক্যাচের হিসাব জ্যোতির এই মূল্যায়নের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বিশেষ করে শেফালির সুযোগগুলো হাতছাড়া না হলে ইন্ডিয়ার স্কোর ১৪৯ পর্যন্ত যেত কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
জ্যোতির ধারণা রান আর কিছু কম হলে গল্পটা ভিন্ন হতো, ‘মাঝখানে আমরা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ১৩০-১৩৫ রানেই ওদের আটকে রাখা যেত, তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ভিন্ন দৃশ্যপট থাকত।’
গল্পটা গতবারের এশিয়া কাপের মতোই রয়ে গেল। ২০২৪ সালের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ১০ উইকেটে হেরেছিল। এবার জ্যোতিরা প্রত্যয়ী ছিল প্রতিষোধ নেওয়ার। কিনতি ফিল্ডিং ব্যর্থতায় সেই আশা আর পূরণ হলো না বাঘিনীদের।
ইউডি/রেজা

