আয়ারল্যান্ড একীভূত হলে তা হবে ‘চমৎকার’: ট্রাম্প

আয়ারল্যান্ড একীভূত হলে তা হবে ‘চমৎকার’: ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৭:১৩

আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আয়ারল্যান্ড একীভূত হলে তা হবে ‘চমৎকার’।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিন সফরে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে বসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ট্রাম্প। তবে তার এ মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি লন্ডনের মন্ত্রীরা।

ট্রাম্প বলেন, আমি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চাই না। তবে আমি আপনাদের বলব, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। শেষ পর্যন্ত এটি ঘটবে… আমার মনে হয়, এটি একটি চমৎকার বিষয় হবে।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে বা ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানান প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের একজন মুখপাত্র জানান, আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার বিষয়ে বার্নহামের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বুধবার পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সম্ভাব্য গণভোট নিয়ে বার্নহাম বলেছিলেন, আরেকটি গণভোটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন রয়েছে এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আর যতক্ষণ না পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণভোট হবে না।

১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি, যা বেলফাস্ট চুক্তি নামেও পরিচিত, অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্রিটেন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত প্রায় তিন দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে। ওই সাম্প্রদায়িক সংঘাতে মূলত একদিকে ছিল ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের দাবিতে ক্যাথলিক জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অন্যদিকে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকতে চাওয়া প্রোটেস্ট্যান্ট ইউনিয়নিস্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী। সংঘাতে ব্রিটিশ সেনারাও জড়িত ছিল।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি ট্রাম্পের নয়, সেখানকার জনগণের।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্যদের চেয়ে ভালো জানেন যে নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন সেখানকার জনগণ, লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য নয়।

জনমত জরিপগুলোতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ এখনো ব্রিটেনের সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও ব্যবধান কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পর আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। গত বছর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়া কনলি ২০১৯ সালে ট্রাম্প যখন সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আয়ারল্যান্ড সফর করেছিলেন, তখন পশ্চিমাঞ্চলের শ্যানন বিমানবন্দরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন।

এবারও ট্রাম্পের সফরের সময় তার কয়েকজন সমর্থক বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা রক্ষার আহ্বান জানান।

এদিকে ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। পশ্চিম আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্পের ডুনবেগের গলফ কোর্সের কাছেও বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল।

আলজাজিরার প্রতিবেদক বলেন, ট্রাম্পের সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ‘অনেক কারণ’ রয়েছে বলে মনে করেন ডাবলিনের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্বে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ট্রাম্প দায়ী এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে তিনি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।

ট্রাম্পের সফর ও নিরাপত্তার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা যেত।

সূত্র: আলজাজিরা

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading