মাধ্যমিকে ৬শ কোটি টাকার ল্যাপটপ, প্রাথমিকেও সমান গুরুত্ব চান ববি হাজ্জাজ

মাধ্যমিকে ৬শ কোটি টাকার ল্যাপটপ, প্রাথমিকেও সমান গুরুত্ব চান ববি হাজ্জাজ

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৫:০৫

মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়া হলে প্রাথমিকের কৃতী শিক্ষার্থীদেরও একই সুবিধার আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা, কলম, ইরেজার ও শার্পনারের মতো শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে ‘প্রমাণ থেকে পদক্ষেপ : বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার ফল প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৬০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে তিনি বলেন, ল্যাপটপ অ্যাবসলিউটলি নেসেসারি (অত্যাবশ্যকীয়) আইটেম নয় ওই শিক্ষার্থীর পরের শিক্ষার জন্য। কিন্তু খাতা, কলম, ইরেজার, শার্পনার এসব আমার প্রাথমিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার জন্য অ্যাবসলিউটলি নেসেসারি আইটেম।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য যদি ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করা যায়, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতেও একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ওনারা যদি ৬০০ নিতে পারেন, আমাদের ৬০০ দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় শিশুদের কীভাবে ডিভাইসমুখী না করে বইমুখী করা যায়, সে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পানিতে ডুবে শিশুদের মৃত্যু রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করলেও শিশুদের পড়ার ও গাণিতিক মৌলিক দক্ষতা অর্জনে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান-এর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। সব স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান ও চাহিদা এক না হওয়ায় সার্বজনীন বরাদ্দের বদলে দরিদ্র, দূরবর্তী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাধান্য দিয়ে সমতাভিত্তিক ও সময়মতো অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কেবল অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, বরং প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে স্লিপ কেবল অর্থ খরচের মাধ্যম না হয়ে শিশুদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে শিক্ষার মূল ফলাফল অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিচার্চ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসাইন জিল্লুর রহমান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের এডুকেশন স্পেশালিস্ট জয় মিলান মালার, প্রাইমারি শিক্ষার প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading