আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন এরদোগান
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৫:১৬
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও লড়তে পারেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অবজারভার।
এরদোগানের উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, সংসদের ৬০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩৬০ জন আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ২০২৮ সালের এপ্রিলে নির্বাচন হতে পারে। তিনি সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ওই বছরের ১৬ এপ্রিলের কথা বলেছেন।
তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন সাধারণত ২০২৮ সালের মে মাসে হওয়ার কথা। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলে আগাম নির্বাচন ডাকা সম্ভব। এমন নির্বাচন হলে এরদোগানের আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে এরদোগানের একে পার্টি এবং জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) মিলিয়ে সংসদে ৩২৬টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ ৩৬০ ভোটের প্রয়োজন হলে তাদের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
এতদিন তুরস্কের সরকার বলে আসছিল, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি এরদোগানের দল একেপির মুখপাত্র ওমের চেলিকও সম্প্রতি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে এরদোগানের উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগাম নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এরদোগান ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
পরে এরদোগানের সময়েই তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতি থেকে প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তিত হয়। এরপর তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন।
২০২৩ সালের নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এরদোগান সেটিকে তার শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় তিনি ভোটারদের কাছে তাকে আরেকবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে আগাম নির্বাচন হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তুরস্কের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় সংসদ আগাম নির্বাচন ডাকলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।
ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি আগেই হবে এবং হলে এরদোগান আবারও প্রার্থী হবেন কি না, এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
ইউডি/রেজা

