নুসরাত হত্যা মামলায় পুলিশকে কেন ছাড়, প্রশ্ন ফখরুলের
সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ জনের ফাঁসির রায় হলেও এতে ওই এলাকার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার কারণ জানতে চাইলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তার ঘণ্টাখানেক আগেই আলোচিত এই মামলার রায় দেয় ফেনীর আদালত।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এখানেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, যেহেতু পুলিশের ওপর নির্ভরশীল এই সরকার, সেজন্য তারা তাদেরকে (পুলিশকে) এসব কাজ থেকে ছাড় দিয়ে যাচ্ছে।”
নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় তার ভাই যে মামলা করেন, তাতে আসামির তালিকায় কোনো পুলিশ সদস্যের নাম ছিল না।
তদন্তে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে আরও আটজনের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাদের আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।
তবে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনাগাজী থানার তখনকার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, উপপরিদর্শক মো. ইকবালের বিরুদ্ধে ’গাফিলতির’ প্রমাণ পেয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল।
অন্যদিকে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি নেওয়ার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে আলাদা মামলা হয়েছে।
‘অনেক ঘটনা মিস করেছি’
গত ৩ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইন্টারন্যাল ক্যারোটিভ আর্টারিতে ব্লকের জন্য সেখানেই চিকিৎসা নেন তিনি।
চিকিৎসা শেষে বিএনপি মহাসচিব ‘এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে’র (এপিডিইউ) বৈঠকে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ায় যান। তিনি এই সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান।
অস্ট্রেলিয়াতে ১৮ দিনের ‘ছুটি’ কাটিয়েছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আমি গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে আমার চিকিৎসার কিছু ফলোআপ ছিল। ওখানে দুদিন থাকার পরে আমি অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েছি।
“আপনারা সবাই জানেন, সেখানে আমার বড় মেয়ে (শামারুহ মির্জা) থাকে। আমি দলের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলাম যে কিছুদিন একটু ওদের সঙ্গে কাটিয়ে আসব।
‘‘অস্ট্রেলিয়াতে আবার আমার এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের একটা কনফারেন্স ছিল। আর অস্ট্রেলিয়ার যে রুলিং পার্টি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি তারা আমাকে দাওয়াত করেছিল তাদের ফেডারেল কনফারেন্সে। এটা শেষ করে আমি আজকে দেশে ফিরছি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে যখন সংবাদের ঘনঘটা ওই সময়টা আমি মিস করেছি। তবে আমি ট্র্যাকে ছিলাম, খোঁজ-খবর রেখেছি, অবজার্ভ করেছি।
“বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যার যে ঘটনা, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক, এটা ক্ষমাহীন একটা অপরাধ। এই অপরাধের পেছনে আমি সম্পূর্ণভাবে সরকারকে দায়ী করব এজন্য যে, সরকারের রুলিং পার্টি আছে তাদের প্রশ্রয়ে এ সমস্ত এলিমেন্টসরা আজকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ বা যুবলীগ গত কয়েক বছর ধরে একেবারেই লাগামহীন হয়েছে, গোটা দেশে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।”
তিনি বলেন, “যে বিষয়টা নিয়ে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে-এটা কোনো মতেই কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাধারণ নাগরিক ছাত্র যে তার দেশের স্বার্থ সম্পর্কে একটা মতামত দিতে পারবেন না এটা কখনও চিন্তা করা যায় না।“
অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ও ওই সফরে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা মনে করি যে, ভারতে যে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি যে চুক্তিগুলো করেছেন, যেসব এমওইউ সই করেছেন সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। শুধু তাই নয়, বলা যেতে পারে যে বাংলাদেশের স্বার্থ বিঘ্নিতও হয়েছে।”
ফেইসবুক ‘হ্যাক’ হওয়ার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ভোলার বোরহানউদ্দিনে সহিংসতা ছড়ানোর ঘটনা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আর ভোলার ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনাগুলোকে আমার কেন যেন সন্দেহ হয়, নিশ্চয়ই কোনো না কোনো মহল থেকে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।
“যারা এই ধরনের লেখা লেখেন আমাদের রসুল সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেন এটা নিন্দনীয়, একই সঙ্গে পুলিশ যে গুলি করেছে সেটা আরো বেশি নিন্দনীয়। এজন্য যে, আমরা দেখলাম ভোলায় কোনো রকমের ভায়োলেন্স ছিল না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশ আক্রমণ করেছে, গোলাগুলি করেছে। এতে প্রমাণিত হয়- ভিন্নমত প্রকাশে কোনো স্বাধীনতা নেই। যেটা আমরা বার বার বলে আসছি।”
একাদশ নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের বক্তব্য প্রসঙ্গে তার ছাত্র সংগঠনের এক সময়ের নেতা ফখরুল বলেন, “মেনন ভাইকে ধন্যবাদ দেই যে, এতদিন পরে তিনি সত্য কথা বললেন। এরপর সরকারের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা।”

