আইনমন্ত্রীর ধারণা নুসরাত হত্যা মামলার রায় আপিলেও বহাল থাকবে
উত্তরদক্ষিণ মূদ্রিত সংস্করন ২৬ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য) হাইকোর্টে এলে তা দ্রুত শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই মামলায় সাজার রায় আপিলেও বহাল থাকবে। গতকাল শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। আনিসুল হক বলেন, ‘নুসরাত হত্যা গুরুত্বপূর্ণ মামলা, গুরুত্বসহকারে শেষ করেছেন প্রসিকিউশন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার দৃষ্টান্ত হলো এই রায়। নুসরাত হত্যার রায় উচ্চ আদালতে এলে এবং আসামিদের ডেথ রেফারেন্স প্রস্তুত হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়ে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলে হাইকোর্টেও মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা বহাল থাকবে বলে আশা করছি।’ সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ মামলার তদন্ত কবে শেষ হবে, তা জানা নেই। তবে এ মামলার তদন্তে হস্তক্ষেপ করার কোনও সুযোগ নেই।’ ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা প্রদানকারী জজদের পুরস্কার হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে’ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে সাজা খাটছেন। বিচারকের কোনও দোষ নেই।’ হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ যথাথই হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত,গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। এ মামলার রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। আসামিরা হলো সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মণি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)। উল্লেখ্য, এ বছরের ৬ এপ্রিল সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত জাহান রাফি মারা যান।

