বোরহাউদ্দিনের সহিংসতা: প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা প্রশাসনের কমিটি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৬ অক্টোবর২০১৯ ১২:২৫
ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংঘাতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগ ভোলার উপ-পরিচালক মামুদুর রহমান শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকের কাছে ১৫ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন জমা দেন। মামুদুর রহমান বলেন, তিনদিন মেয়াদের কমিটির গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দুই দিন সময় বাড়িয়ে পঞ্চম দিনে তা জমা দিলেন।
প্রতিবেদনে কি আছে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলতে রাজি হননি। পরে মামুদুর জানান, এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) আতাহার মিয়া ও সদর সারকেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহসিন আল ফারুক। এক হিন্দু তরুণের ফেইসবুক আইডি ‘হ্যাক করে অবমাননাকর’ বক্তব্য ছড়ানোর পর ‘মুসলিম তাওহিদী জনতা’র ব্যানারে রোববার ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা শহরে সমাবেশ ডাকা হয়।
সেখান থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় কয়েকশ মানুষ। দফায় দফায় সংঘর্ষে এক মাদ্রাসাছাত্রসহ চারজন নিহত হন; আহত হন ১০ পুলিশসহ শতাধিক। পরে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার বিকালে ওই তরুণের ফেইসবুক আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ একটি মেসেজ তার কয়েকজন ফেইসবুক বন্ধুর কাছে যায়। এক পর্যায় কয়েকটি আইডি থেকে ‘মেসেজটির স্ক্রিনশট ফেইসবুকে ছড়ানো’ হয়। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ‘ফেইসবুকে প্রতিবাদ শুরু হয়।’এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর ওই তরুণ বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করতে যায় বলে জানায় পুলিশ।
ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননা করার গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার নজির রয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় হামলা চালিয়ে লুটপাটসহ ১২টি বৌদ্ধ মন্দির ও ৩০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে একদল লোক। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ নামে এক মৎসজীবীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে লোকজনকে খেপিয়ে তুলে ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়।

