ত্রি-নয়নী নাট্যোত্সবে সোনাই মাধব
উত্তরদক্ষিণ মূদ্রিত সংস্করন ২৬ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আসন্ন শ্যামা পূজাকে ঘিরে সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি মানসিংহের স্মৃতি বিজড়িত গঙ্গাসাগর দীঘিতটে অবস্থিত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির প্রাঙ্গণে এবারও অনুষ্ঠিত হবে ‘ত্রি-নয়নী নাট্যোত্সব’। এতে আগামী ২৮ অক্টোবর প্রদর্শিত হবে লোক নাট্যদলের ‘সোনাই মাধব’। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন লোক নাট্যদলের অধিকর্তা লিয়াকত আলী লাকী। নির্দেশক জানান, সোনাই মাধব মূলত সোনাই এবং মাধবের প্রেম এবং চির বিচ্ছেদের কাহিনি, আর এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানব সমাজের বিভিন্ন দিক। বাবা নেই, ভাই নেই, মায়ের একমাত্র সন্তান সোনাই। রূপে-গুণে অতুলনীয়। তার মা তাকে তার মামার কাছে রেখে আসে সুন্দর ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। ঘটকের আনা কোনো পাত্রই মামা-মামির পছন্দ হয় না। এরই মধ্যে সোনাইয়ের সঙ্গে মাধবের দেখা হয়, হয় পরিচয় এবং প্রেম। নীরবে চলে দেখাশোনা, চিঠি আদান-প্রদান। এ গ্রামে এক দেওয়ান ছিল, তার নাম ভাবনা, তার অত্যাচারে সুন্দরী মেয়েরা ঘরের বাইরে যেতে পারত না। ভাবনা জানতে পারে সোনাইয়ের কথা এবং তার মামার কাছে যায়। মামা প্রথমে সোনাইকে ভাবনার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয় না। পরে মৃত্যুর ভয় দেখালে সে বলে দেয় নদীতে জল আনতে গেলে যেন সোনাইকে সে বজরায় তুলে নেয়। ভাবনা তাই করে। বজরা থেকে মেয়ে-কান্না আসছে শুনে মাধব গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং দেখে সে মেয়ে তারই সোনাই। পরে মাধব সোনাইয়ের বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু দেওয়ান মাধবের বাবাকে ধরে নিয়ে যায়, তাই বাবাকে উদ্ধার করার জন্য মাধব যায় দেওয়ানের কাছে। সোনাই এক বছর একা থাকে ঘরে। তারপর ফিরে আসে তার শ্বশুর, বলে সোনাই না গেলে মাধবকে ছেড়ে দেবে না। বাধ্য হয়ে সোনাই যায় মাধবকে ছাড়াতে। দেওয়ান মাধবকে ছেড়ে দিয়ে ঘরে এসে দেখে সোনাই বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। কাহিনি শেষ হয় মাধবের হাহাকারে, সে নদীর ঘাটে বসে সোনাইকে ডেকে চলে। কারো লালসার কারণে যে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে তা-ই এ পালায় বোঝানো হয়েছে। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকসানা আক্তার রূপসা, মো. জাহিদুল কবির লিটন, লিয়াকত আলী লাকী, রহিমা খাতুন নীলা, উম্মে মরিয়ম রুমা ও কিশোয়ার জাহান প্রমুখ।

