বিজিএমইএ ভবন ভাঙা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা

উত্তরদক্ষিণ মূদ্রিত সংস্করন ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০

কথা ছিল এই সপ্তাহে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু হবে; কিন্তু শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে শেষ সময়ে ঠিকাদারি সংস্থা সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ ভবনের মালামাল সরিয়ে নেওয়ায় ভবন ভাঙার কাজ এখন করতে চাচ্ছে না ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ। এ বিষয়ে রাজউকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর বিডিনিউজ। রাজধানীর হাতিরঝিলে জলাশয়ের উপর আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠা ১৫ তলা বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর ভবনটি ভাঙতে যাচ্ছে রাজউক। গত ১৫ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন ভাঙা ও অপসারণ কাজের দরপত্র অনুমোদন করে ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজকে চিঠি দেওয়া হয়। ১৬ অক্টোবর জামানত হিসেবে রাজউকে ১৬ লাখ টাকা জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে ভবন ভাঙার কাজ শুরুর আগে ২১ অক্টোবর আবার মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করে বিজিএমইএ। এ অবস্থায় ২২ অক্টোবর রাজউকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানায় ফোর স্টার। চিঠিতে বলা হয়, বিজিএমইএ ভবন থেকে লিফট, এয়ার কন্ডিশনের কমপ্রেসার, সাব স্টেশন প্যানেল বোর্ড,তামার তারসহ মূল্যবান মালামাল রাজউকের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজিএমইএর লোকজন নিয়ে যাচ্ছে। মালামাল যেন সরিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে। তবে ঠিকাদারের আবেদনের পর ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রাজউক। এ অবস্থায় ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ এ ভবন ভাঙার কাজ থেকে সরে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. নছরুল্লাহ খান রাশেদ। তিনি গতকাল শনিবার (২৬ অক্টোবর) বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও পারেননি তারা। “আমরা গত বুধবার, বৃহস্পতিবার রাজউকের চেয়ারম্যান মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি দেখা করেননি। প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলি। তিনি চেয়ারম্যান বা মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এগুলো নাকি ওপরের মহলের নির্দেশে করা হচ্ছে।” এই দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন ভাঙার জন্য আলাদা কোনো অর্থ পাবে না। দুটি বেইজমেন্টসহ ১৫ তলা বিজিএমইএ ভবন ভাঙার পর ব্যবহারযোগ্য মালামাল বিক্রি করে তারা তাদের খরচ ও লাভ উঠিয়ে নেবে। নছরুল্লাহর বক্তব্য, তারা মামলা দেখে দরপ্রস্তাব করেছিলেন, এখন সব সরিয়ে নেওয়া হলে তাদের লাভ থাকবে না বলে তারা অনাগ্রহী। “লিফট, পাইপ এসব তো বিল্ডিংয়ের অংশ। নিলাম হওয়ার সময় এসব মালামাল তো ভবনে ছিল।” আগামী সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বলব আমাদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য। আর বিজিএমইএ যেসব মালামাল নিয়ে গেছে, সেসব বাদ দিয়ে যেন নতুন করে অ্যাসেসমেন্ট করে। নইলে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।” এ বিষয়ে কথা বলতে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এবং হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌসের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি প্রথমে ধরেননি। বিষয়টি জানিয়ে এসএমএস পাঠানোর আবার ফোন দিলে তিনি ধরেন; তবে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে লাইন কেটে দেন। রাজউক কর্মকর্তারা জানান, নিলামের আগে বিজিএমইএ ভবনের নিলাম মূল্য প্রাক্কলন করে মালমালের বিক্রয়লব্ধ অর্থের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫ টাকা ধরা হয়। ভবনের রড, ইট, বাইরের গ্লাস, গ্লাসের ফ্রেম, এম এস পাইপ, সিআই শিট, স্টিলের এঙ্গেল, বাউন্ডারি গ্রিল, বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, এয়ার কুলিং কমপ্রেসার, লিফট, চেয়ার, ফলস সিলিং, স্যানিটারি পণ্য এবং অগ্নি নির্গমন দরজা বিক্রি করে এ টাকা পাওয়া যাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়। গত এপ্রিলে ভবনটি ভাঙা এবং ব্যবহারযোগ্য মালামাল কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আগ্রহীদের ২৪ এপ্রিল বিকাল ৪টার মধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে বলা হয়। তিন মাসের মধ্যে ভবন ভাঙার শর্ত দিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বহুতল ভবন ভাঙার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ভাঙার ব্যাপারে ক্রেতাকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভবন ভাঙার জন্য আলাদা কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। রাজউকের ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স এক কোটি ৭০ লাখ টাকা, পিএনএস এন্টারপ্রাইজ ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স চন্দ্রপুরী এন্টারপ্রাইজ এক কোটি টাকা, ফোর স্টার এক কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং মেসার্স সামিরা এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করে। প্রথমে সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কাজটি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা অপারগতা জানালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চট্টগ্রামের ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ পায় কাজটি। বিজিএমইএ ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘ক্যান্সার’ আখ্যায়িত করে হাই কোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে ইমারতটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। পরে আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। সর্বোচ্চ আদালত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় দেওয়ার পর কয়েক দফায় সময় নিয়েছিল তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। সবশেষ আদালতের দেওয়া সাত মাস সময়সীমা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনের মালামাল সরিয়ে নিতে একদিন সময় বেঁধে দেয় রাজউক। পরে সময় বাড়ানো হয় আরও। ভবনে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল সরিয়ে নিলে বিজিএমএইএ ভবন বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় রাজউক।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সর্বোচ্চ আদালতে দেওয়া সময়সীমা শেষ হয় এ বছরের ১২ এপ্রিল। পরে ১৫ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনের মালামাল সরিয়ে নিতে একদিন সময় বেঁধে দেয় রাজউক। পরে সময় বাড়ানো হয় আরও একদিন; ১৬ এপ্রিল ভবনে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল সরিয়ে নিলে বিজিএমএইএ ভবন বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় রাজউক। মাঝে একদিন ১৭ এপ্রিল মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ বন্ধ থাকে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading