বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের অবস্থান, সতর্ক পুলিশ
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩০
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। তাদের এই কর্মসূচিতে ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ফোরামের সদস্য ও সমর্থকেরা।
পরে মিছিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ২১তম দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি কোটি কোটি আমানতকারীর আস্থা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকদের উদ্বেগের কারণে ব্যাংকটির সুনাম ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তারা।
ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ‘আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করব।’
আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুরক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যেই তাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
ইউডি/কেএস

