চা উত্পাদনে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা

চা উত্পাদনে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা

উত্তরদক্ষিণ মূদ্রিত সংস্করন ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০

দেশের চা শিল্পের ১৬৫ বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে দিয়ে এবার ৯০ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যা চা উত্পাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কৌশলের কারণে এ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন চা শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের লস্করপুর ভ্যালীতে চলতি বছর রোগ বালাই কম থাকায় এবং পরিমিত বৃষ্টি হওয়ায় চা উত্পাদনের নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। চা শিল্পের ইতিহাসে এ প্রথম ভ্যালীতে চলতি মৌসুমের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ উত্পাদন অর্থাত্ ৯১ লাখ ৩১ হাজার ২শ ৪৬ কেজি চা উত্পাদিত হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৯.৩৪ শতাংশ বেশি। এখনও পরিমতি বৃষ্টি হওয়ায় এখনও ভালো উত্পাদন হচ্ছে। এ সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় উত্পাদন যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি চায়ের মারও ভালো হচ্ছে। মওসুমের আগামী ৩ মাস উত্পাদনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে চায়ের উত্পাদন ভ্যালীতে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি চা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী বাড়লে নতুন যুগে প্রবেশ করবে চা শিল্প। শুধু এ ভ্যালীতেই নয়, দেশের সকল এলাকায়ই এবার ভালো ফলন হয়েছে বলে চা শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চা বাগান ও ভ্যালী সুত্রে জানা যায়, চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখায় সরকারের গৃহীত নানান পদক্ষেপ এর পাশাপাশি বাগান ব্যবস্থাপনায় আমুল পরিবর্তন, নতৃন বাগান সৃষ্টি, শ্রমিক অসন্তোষ কম থাকা, আবহাওয়া অনুক’লে থাকা, চলতি বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় এবং রোগ বালাই কম থাকার কারণে চলতি মওসুমে (মার্চ-সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুরে ভ্যালীর ১৭টি চা বাগানে ১৯.৩৪ শতাংশ চা বেশি উত্পাদন হয়েছে। ২০১৮ সালে ৭ মাসে উত্পাদিত হয়েছিল ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৬শ ২৬কেজি চা। চলতি বছর এ সময়ে ভ্যালীতে উত্পাদিত হয়েছে ৯১ লাখ ৩১ হাজার ২শ ৪৬কেজি চা। যা ভ্যালীর ইতিহাসে এবারই প্রথম। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ভ্যালীতে উত্পাদন ১১.০৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। ২০১৮ সালে ভ্যালীতে একই সময়ে উত্পাদিত হয়েছিল ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ১শ ০৪কেজি চা। চলতি বছর উত্পাদিত হয়েছে ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪শ ৯৮ কেজি। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে ভ্যালীতে সর্ব্বোচ্চ ১ কোটি ২৯ লাখ কেজি তৈরী চা উত্পাদিত হয়েছিল। চা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর বৃষ্টির পরিমান ভালো থাকলে এ উত্পাদন ১ কোটি ২৯ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এনিয়ে চা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। চলতি চায়ের মওসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে মার্চের পরিবর্তে ফেব্রুয়ারী মাসেই উত্সব মুখর পরিবেশে ভ্যালীর ১৭টি চা বাগানে চা উত্পাদন শুরু হয়। গত বছরের তুলনায় ভ্যালীতে উত্পাদন প্রায় ২০ শতাংশ বেশি হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখ করার মতো হচ্ছে, এবার সেপ্টেম্বর মাসে ভ্যালীর কোন বাগানেই উত্পাদনে ঘাটতি নেই। অক্টোবর মাসেও ঘাটতির সম্ভাবনা কম। ভ্যালীতে এবার বাগান ভিত্তিক সর্ব্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত বেশি উত্পাদন হয়েছে। অর্থাত্ বৃদ্ধির হার শতভাগের কাছাকাছি চলে গেছে। অথচ গত বছর বেশ কয়েকটি বাগানে উত্পাদনে ঘাটতি ছিল। ভ্যালীর বৈকণ্ঠপুর চা বাগান ২০১৯ সালে ৯৩ লাখ ৮শ ২৫কেজি চা উত্পাদন করেছে। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ৭৮.৮০ শতাংশ বেশি। নালূয়া চা বাগান ভ্যালীর সর্ব্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক ১০ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উত্পাদন করেছে। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ১০.১০ শতাংশ বেশি। অথচ এ বাগানে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ২/৩দিন উত্পাদন হয়নি। আর না হলে এ উত্পাদন আরও বেশি হত বলে মনে করেন ওই বাগানের কর্মকর্তারা। চান্দপুর বাগান উত্পাদন করেছে ৯ লাখ ৬ হাজার ৬৭০ কেজি চা। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ২২.৮১ শতাংশ বেশি। একই ভাবে লালচান্দ ৪৭ শতাংশ, রেমা চা বাগান ৪৫ শতাংশ, দেউন্দি চা বাগানে ৩৭.৭৭ শতাংশ, বৃন্দাবন চা বাগানে ৩৩.২৮ শতাংশ ও জগদীশপুর চা বাগানে ২০ শতাংশ চা উত্পাদন বেশি হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading