বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরঃ স্থান নির্বাচনে কেটে গেল ৯ বছর
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৮ অক্টোবর ২০১৯ @ ১২ঃ৪০
এক দশক আগে ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগকেন্দ্র হিসেবে বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা এখনো আলোর মুখ দেখেনি; জায়গা নির্বাচনেই আটকে আছে। শুরুতে ঢাকার আড়িয়াল বিলে জমি বাছাই করা হলেও স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সেখান থেকে সরে আসে সরকার। এরপর পদ্মা নদীর ওপারে জায়গা বাছাইয়ের কথা আলোচনায় থাকলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, বিমান বন্দরের উপযুক্ত জায়গা বাছাইয়ে কয়েক হাজার পরিবার উচ্ছেদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, “আমরা এখনো কোনো স্থান নির্বাচন করতে পারিনি। বিমানবন্দরটির জন্য দরকার ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ৫ কিলোমিটার চওড়া জায়গা।
“কিন্তু আমরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই ৮ হাজার/১০ হাজার/ ১৫ হাজার পরিবার রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এমন একটা জায়গা নির্বাচন করতে, যেখান থেকে সবচেয়ে কম মানুষকে উচ্ছেদ করতে হবে।” ২০১০ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৫০ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবনায় তিনটি রানওয়েতে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ৪০০টি ও কার্গোবাহী ২০০টি ফ্লাইট ওঠানামার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর জন্য আড়িয়াল বিলে জায়গা না পেয়ে শরীয়তপুররে জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচরে জায়গা বাছাই করা হলেও সেখান থেকে ৮ হাজারের বেশি হাজার পরিবারকে পুর্নবাসন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাছাড়া চরের ওই ভূমি বিশাল বিমানবন্দরের ভারবহনে সক্ষম হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে সরকারের।
যেসব জায়গা ছিল আলোচনায়
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ২০১০ সালে প্রাথমিকভাবে ময়মনসিংহের ত্রিশালকে বিবেচনা হলেও তা থেকে সরে গিয়ে মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিল বাছাই করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ২০১১ সালে তার বিরোধিতায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে তা স্থগিত করা হয়।
২০১৩ সালে এসে মাদারীপুরে জায়গা বাছাই করা হয়। এই জেলার শিবচরের চর জানাজাত ও রাজৈরের পাশাপাশি কেয়াইন, চর বিলাসপুর এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিল- এই আটটি স্থান এর মধ্যে পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ২০১৬ সালে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়ির সঙ্গে চুক্তি সই বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি স্থান বাছাইয়ে জনবসতি কত রয়েছে, কত লোক সরাতে হবে, উচ্ছেদ-পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সম্ভব্য ব্যয় এবং ভূমি অধিগ্রহণের সম্ভাব্য আর্থিক দিকটি বিবেচনায় করে সমীক্ষা প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করছে। এবিষয়ে বেবিচকের চেয়াম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, “আমরা স্টাডি করে রেখেছি। কিন্তু চূড়ান্ত কিছু হয়নি। এটা এখন স্থান নির্বাচনী পর্যায়ে রয়েছে।” কয়েকটি জায়গা নিয়ে যে সমীক্ষা হয়েছে তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনার পর সরকার স্থান চূড়ান্ত করবে বলে জানান তিনি। তবে এটা নিয়ে কবে আলোচনা হবে তা জানা যায়নি।
২০১০ সালের ৯ মার্চ জাতির পিতার নামে এই বিমানবন্দরের নাম রাখা হয় জানিয়ে ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিমান বন্দরটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ১৮ মাসের মধ্যে শেষ করা হবে।এ সম্ভাব্যতা যাচাই কাজে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে ১২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।এই চুক্তির আওতায় বিমান বন্দরটির সম্ভাব্যতা যাচাই, স্থান নির্ধারণ কাজ এবং বিমানবন্দরটির মাস্টার প্ল্যানিং প্রণয়নের কাজ চলবে। তথ্য সহায়তাঃ বিডিনিউজ২৪

