চুলের সাজে ঝাঁপটা

চুলের সাজে ঝাঁপটা

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ৩০ অক্টোবর ২০১৯ । আপডেট ১৬:০৪

চুলের গয়না হিসেবে ঝাঁপটার ব্যবহার অনেকদিনের। একটা সময় সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে ঝাঁপটার ব্যবহার ছিল খুবই প্রচলিত। সেই ধারা আবার ফিরে এসেছে। তবে যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গয়নার ফ্যাশন ট্রেন্ডেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। তাই ঐতিহ্যবাহী ভারী সব গয়নার বদলে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন হালকা নকশার ট্রেন্ডি গয়না। আর তাইতো ভারী নকশার পরিবর্তে হালকা কারুকাজ করা ঝাঁপটাই সিঁথির একপাশে লেপ্টে বেশি শোভা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে কনের সাজ তো ঝাঁপটা ছাড়া অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এছাড়াও বিয়ের দাওয়াতে কিংবা জমকালো কোনো পার্টিতে আপনার সাজের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে এই ঝাঁপটা। ট্র্যাডিশনাল সাজ হিসেবে শাড়ি, লেহেঙ্গা কিংবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে পরা হলেও, নতুন এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে ট্রেন্ডি লুকের সঙ্গেও চুলের একপাশে গেঁথে নিতে পারেন ঝাঁপটা। চুলে সোজা কিংবা একপাশে সিঁথির পাশাপাশি একপাশে ব্যাংস কাট রেখে অন্য পাশে পরতে পারেন ঝাঁপটা। দেখতে সম্ভবত মন্দ লাগবে না। পেটানো খাঁটি গিনি সোনার বদলে এসেছে কিছুটা হালকা ডিজাইনের সোনার সঙ্গে পাথর, পুঁতি, কুন্দন বা মুক্তার মিশেলে তৈরি ঝাঁপটা। আপনার শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে স্টোন বা পুঁতি বসিয়ে নিতে পারেন। এখনকার ট্রেন্ড সেটাই। এছাড়াও পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মিনা করিয়ে নিতে পারেন। ব্যবহার করতে পারেন রুবি, পান্না, টোপাজের মতো দামি পাথর। রোজ গোল্ডের সঙ্গে মুক্তা সুন্দর মানাবে।

সোনা যেমন ঐতিহ্য, হীরা তেমনি আভিজাত্যের প্রতীক। আগে শুধু উচ্চবিত্তের নাগালে থাকলেও এখন মধ্যবিত্তের হাতের সীমানায় চলে এসেছে হীরা। আমাদের দেশে দুই ধরনের হীরা পাওয়া যায়, বোম্বে কাট আর বেলজিয়াম কাট। বোম্বে কাট দামে সস্তা হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। তাই হীরা বসানো ঝাঁপটাও পরতে পারেন। হীরার ঝাঁপটা বেশি মানাবে শিফন বা জর্জেটের হালকা কাজের আধুনিক শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে। সিফন, জর্জেট, নেট শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে পাথর, পুঁতি বা হীরার ঝাঁপটা। ঝাঁপটায় জমকালো ভারী কাজ থাকলে কিছুটা হালকা কাজের শাড়ি বেছে নিন। এতে ঝাঁপটার সৌন্দর্য বেশি ফুটে উঠবে। শাড়ির মূল রঙ নয়, বরং কম প্রাধান্য পেয়েছে এমন কোনো রঙে গয়না তৈরি করার চল এখন।

মাথায় দিয়ে টায়রা: সাজসজ্জায় ভিন্নতা আনতে আপনার পোশাকে যেমন নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন, তেমনি খেলতে পারেন চুলের স্টাইল নিয়েও। আর জমকালো অনুষ্ঠানে জমকালো সাজতেও চুলের চেনা স্টাইলে ভিন্নতা আনে টিকলি, টায়রা কিংবা ঝাপটা। আজকাল কিন্তু শুধু বউরাই মাথায় টায়রা পরেন না। যে কেউই সাজ আর পোশাকের সঙ্গে মানানসই টায়রা ব্যবহার করতে পারেন। শুধু টায়রা কেন, ব্যবহার করতে পারেন ঝাপটা আর টিকলিও। শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে চুলে পরা যায়  টিকলি ও টায়রা। সে ক্ষেত্রে মাঝে সিঁথি করে দুই পাশে টায়রা ও মাঝে টিকলি পরা যায় আবার এক পাশে সিঁথি করে মাঝে টিকলি ও যেকোনো এক পাশে টায়রা পরা যায়। টিকলির সঙ্গে টায়রা ব্যবহারের সময় এক পাশে সিঁথি করে মাঝে টিকলি ও এক পাশে টায়রা পরা যায়। পোশাক শাড়ি বা লেহেঙ্গা হলে পেছনের চুল বেঁধে নেওয়াই ভালো। এ ক্ষেত্রে বেণি অথবা খোঁপা বেশি মানানসই হবে। যাঁরা এক পাশে সিঁথি করবেন, তাঁরা চাইলে অন্য পাশে সামনের কিছু অংশ পেঁচিয়ে পেছন দিকে নিয়ে বেঁধে দিতে পারেন। চেইনের মতো চিকন টায়রাও পরতে পারেন এটি। চুলের ফাঁকে দেখা যাবে এই টায়রার চমক। চুল থাকবে খোলা ও স্ট্রেট করা। এই ধরনের টায়রা আসলে কিনতে পাওয়া যায় না। চেইন কিংবা পায়েল দিয়েই এভাবে চুল সাজানো যায়। অথবা পায়েল পছন্দ করে দোকানিকে বললেই চুলে সহজ করে বাঁধার জন্য পায়েলটির আংটা পরিবর্তন করে দিতে পারেন। যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায় এই সাজ। চাইলে কুন্দনের টিকলি, টায়রা ও ঝাপটা কিনতে পারেন যে কোন গয়নার দোকান থেকে। নকশা পছন্দ না হলে রুপা দিয়ে গড়িয়ে নিতে পারেন নতুন করে।

লক্ষ্য করুন: মাথায় টিকলি, টায়রা বা ঝাপটা যা-ই পরা হোক না কেন, চুলের ঘনত্ব যেন বেশি থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।  চুলের সাজে ঝাঁপটা পরার আগে আপনার মুখের গড়নের কথাও মাথায় রাখুন। যাদের মুখ গোল, তারা কপালের দিকটা কম ফোলান। লম্বাটে চেহারা যাদের, তারা পেছনের দিকটা ফুলিয়ে নিতে পারেন। চাপা মুখের যারা, তারা দুই পাশেই হালকা করে চুল ফুলিয়ে নিন। এরপর ঝাঁপটা পরুন। এতে ভালো দেখাবে। পার্টি শেষে সাজানো চুলের সাজ তোলাটা কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চুলের সাজে ব্যবহূত সব অনুষঙ্গ আস্তে আস্তে খুলে নিন। মোটা দাঁতওয়ালা চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে চুল আঁচড়ান। জলপাই তেল হালকা গরম করে কিছুক্ষণ মাথার ত্বক ও চুলে ম্যাসাজ করুন। গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। তারপর শ্যাম্পু করে নিন। চুল ভালো থাকবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading