গ্রামীণফোন-রবি’র টালবাহানা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০১ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:০৪
সরকারের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধের লক্ষণ নেই
হিল্লোল বাউলিয়া : বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী বান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বিভিন্ন মহলে। দেশে বর্তমানে ব্যবসার সবচেয়ে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার হতে হয় না এখন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে কোনো হাওয়া ভবন নেই। সুতরাং দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। কিন্তু এই সুযোগের পরও একটি চক্র সরকারের সঙ্গে প্রত্যারণা করার কৌশল অবলম্বন করছে। তারা সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়া পরিশোধ না করে ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। দেখা গেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ঋণ খেলাপি হয়ে উল্টো মামলা করে দেয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে। কিংবা ব্যাংক মামলা করলে নানা কৌশলে সময় ক্ষেপণ করে ব্যাংকের টানা ফেরত না দেয়ার পথ খুঁজতে থাকেন তারা। এর সঙ্গে জড়িত এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী নামের মাফিয়া চক্র। এই চক্রের কারণে বর্তমানে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা অর্থঋণ আদালতের মামলায় আটকে আছে।
একইভাবে বহুজাতিক দুটি বিখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত মোবাইল অপারেটর কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে প্রত্যারণা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একদিকে গ্রাহকদেরকে কাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত সেবা না দিয়ে অতিরিক্ত ও স্বেচ্ছাচারীভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের। অন্যদিকে সরকারের কাছ থেকে তরঙ্গ ও লাইসেন্স নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী তার মূল্যও পরিশোধ না কারার প্রমাণ মিলেছে ওই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অডিটে সরকারের টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার পর তাদেরকে টাকা পরিশোধে বিটিআরসি থেকে বহুবার তাগাদা দেয়া হলেও তাতে পাত্তা দেয়নি মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি- গ্রামীণফোন ও রবি। সরকারের পক্ষ থেকে সমাধান ও মীমাংসার একাধিক উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনোভাবেই তাদের কাছে পাওনা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধে কোনো উদ্যোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে বিটিআরসি কোম্পানি দু’টির ফোরজি লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ করে। এর পরও টাকা পরিশোধ না করে উল্টো সরকারের বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা ঠুকে দেয় বহুজাতিক কোম্পানি দুটি। ফলে সরকারও আইনি প্রক্রিয়ায় তথা আদালতের মীমাংসা মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে নিম্ন আদালত থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কোম্পানি দুটি উচ্চ আদালতে গেছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে বিটিআরসির লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ স্থগিতের আদেশ আসে। তবে বিটিআরসি এ নিয়ে আপিল বিভাগে যায়। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে গ্রামীণফোনের বিষয়টি শুনানি হয়েছে। এসময় সর্বোচ্চ আদালত অবাক হয়েছেন গ্রামীণফোনের উদ্ধত্ত্যপূর্ণ আচরণে। আদালত বলেছেন, ‘ব্যবসা করবেন (রাষ্ট্রকে তার প্রাপ্য) টাকা দিবেন না, তা তো হয় না।’ গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের বকেয়া রয়েছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন কত দিনের মধ্যে বিটিআরসির পাওনা টাকা দিবে সেটি জানাতে দুই সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে কোম্পানিটিকে। অপরদিকে, দ্রুতই রবির বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, গ্রামীণফোনের ন্যায় রবির ব্যাপারেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে সর্বোচ্চ আদালতে। সেই সঙ্গে বিটিআরসির আইনজীবীরা বলছেন, গ্রামীণফোন ও রবির যতদ্রুত শুভবুদ্ধির উদয় হবে, সরকারের পাওনা পরিশোধ করবে- তাদের জন্য তত ভালো। তারা সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে আদালতের ওপর ভর করে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার যে অপচেষ্টা করছে, তা কখনই সম্ভব হবে না বলেও মত আইনজীবীদের।

