বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নাটক
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০১ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৫
১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বান্দরবান বেড়াতে গেলে সেখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নেতা বঙ্গবন্ধুকে একটি বাঘের বাচ্চা উপহার দেন। বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরে বাঘটিকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় দান করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর, পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়। সেসময় বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাঘটিও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। বনের অবোলা পশু বাঘটিকে তারা একটি বদ্ধ ঘরে না খাইয়ে কষ্ট দিয়ে মারে। তার অপরাধ ছিল সে ‘বঙ্গবন্ধু বাঘ’। সেই ঘটনা অবলম্বন করেই আবৃত হয়েছে ‘বাঘ’ নাটকটির কাহিনি। নাটকটি মঞ্চে আনছে রের্পাঁরিধর্মী নাট্যদল ‘দৃশ্যকাব্য’।
কথাসাহিত্যিক নাসরীন মুস্তাফা রচিত এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সময়ের প্রতিভাদীপ্ত নির্দেশক ড. আইরিন পারভীন লোপা। আজ (১ নভেম্বর) জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। আর এখানে উপস্থিত থাকবেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ।
নাটকটি নিয়ে নির্দেশক ড. আইরিন পারভীন লোপা বলেন, ‘নাটকটির কাহিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। আমি নাটকের গল্পটি শুনেই মুগ্ধ হয়েছিলাম। এটি নাসরিন মুস্তাফার অসাধারণ একটি পাণ্ডুলিপি। এমনকি ইতিহাসের নির্মমতম একটা সময়ের সাক্ষ্য বহন করে। আশা করছি, এই নাটকের মধ্য দিয়ে কঠিনতম একটা সময়ের মুখি মুখি হবেন আমাদের দর্শক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি আমার নির্দেশিত ৩৫তম নাটক। এরমধ্যে অধিকাংশ নাটকেই নির্দেশনা দিয়েছি নিজের দলের বাহিরে। তবে অন্যদলে নির্দেশনার কাজটি করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। সকল ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে মহড়া করা এবং যান্ত্রিক এই সময়ে আরেকটি দলের ছেলে-মেয়েদের শাসন করে নাটকে মনোনিবেশ করানোটা সত্যি কঠিন ব্যাপার। ভবিষ্যতে অন্যদলের ব্যানারে নাটক নির্দেশনা দিতে পারবো কী না তাতে সন্দেহ রয়েছে।’ নাটকটি প্রসঙ্গে নাট্যকার নাসরীন মুস্তাফা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরতে নাটকটি রচনা করেছি। বঙ্গবন্ধু যে বাঙালি জাতির মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলেন, নাটকে সেটাই বলতে চেয়েছি।’ ‘বাঘ’ নাটকটিকে মঞ্চে আনার পেছনের গল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নাটকটির মঞ্চে আনার পেছনে সমস্ত কৃতিত্বই ড. আইরিন পারভীন লোপার।
নাটকটি রেডিওতে প্রথমে প্রচার হয়। এতে অভিনয় করেছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মহসীন। তিনি নাটকটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তখন লোপা আপা গল্পটি শুনে মঞ্চ নাট্যরূপ দেয়ার বিষয়ে আমাকে উদ্ভুদ্ধ করে। তার তাড়নাতেই নাটকটি মঞ্চের উপযোগী করে তুলি।’ এ নাটকটির মঞ্চ, পোশাক ও কোরিওগ্রাফি পরিকল্পনা করেছেন আইরিন পারভীন লোপা নিজেই। নাটকটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইয়াসমীন আলী এবং আলোক নির্দেশনা দিয়েছেন অম্লান বিশ্বাস। এতে অভিনয়ে রয়েছেন মোতালেব হোসেন, তাসমি চৌধুরী এবং শাকিল আহমেদসহ আরো অনেকে।

