প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে আবরারের বাবার মামলা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২০
লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাঈমুল আবরারের লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার (৬ নভেম্বর) দৈনিক প্রথম আলো ও পত্রিকাটির সাময়িকী কিশোর আলোর (কিআ) প্রকাশক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আবরারের বাবা একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গ্রহণ করে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক এ আদেশ দেন। আবরারের বাবা মো. মজিবুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন বলে জানান আইনজীবী ওমর ফারুক আসিফ। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবরারের মা জাহানারা বেগমও। আইনজীবী ওমর ফারুক আসিফ বলেন, আদালত মামলার ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে থানায় আবরারের বাবার করা অপমৃত্যুর মামলাটিও তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার এজাহারের কথা উল্লেখ করে আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, গত ১ নভেম্বর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মাঠে প্রথম আলো সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করে আবরার। তবে তাকে পাশের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালী ইউনিভার্সেল হাসপাতালে সোয়া ৪টায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ৪টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ অথবা অনুষ্ঠানের আয়োজক কর্তৃপক্ষ তার বাবাকে না জানিয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে আবরারের এক বন্ধুর বাবা তার বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানান। তবে কলেজ অথবা অনুষ্ঠানের আয়োজকরা তার বাবাকে বিষয়টি জানাননি। পরে আবরারের লাশটি ময়নাতদন্ত না করে তার বাবার কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর মোহাম্মদপুর থানায় পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। তিনি আবেদন করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তথ্য উদঘাটনে প্রয়োজনে মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হোক। আইনজীবী জানান, এর পর বিচারক আবরারের বাবা মজিবুর রহমানের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, শুক্রবার (১ নভেম্বর) ঘুম থেকে উঠে, খাওয়া-দাওয়া সেরে স্কুলে যায় আবরার। পরে আসরের নামাজের পরে আবরারের এক সহপাঠির বাবা বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার কথা জানান।

