জাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১২:২০
ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শাখা ছাত্রলীগের সংঘাতের পর ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে এখনও উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে ক্যাম্পাসে। গতকাল বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের পাশে মুরাদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন আন্দোলনরত-শিক্ষার্থীরা। পরে ভবনটির ফটক আটকে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলকারীরা ছাত্রী হল এলাকায় গিয়ে ছাত্রীদের হল থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। এসময় হল ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে সংহতি সমাবেশ করেন। এদিকে, হল ছাড়ার নির্দেশের পরও রাতে হলে অবস্থান করা ছাত্রীদের অনেকেই গতকাল বুধবার সকালে হল ছাড়েন। একাধিক ছাত্রী জানিয়েছেন, হল ছাড়তে হল প্রশাসন তাদের চাপ প্রয়োগ করছে। দুর্নীতির অভিযোগে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে গত আগস্ট থেকেই আন্দোলন চলছে। গত মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংঘাতে জড়ান। এই সংঘাতের মধ্যদিয়ে বাসভবনে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয় ভিসি ফারজানাকে। তিনি এ ঘটনায় ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংঘাতকে গণঅভ্যুত্থান হিসেবে দেখছেন বলে জানান। ওই সংঘাতে ৮ জন শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর ওই দিন রাতে জাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সঙ্গে তারা ভিসির অপসারণ দাবি জানান।

