রিফাত হত্যা মামলার শুনানি ১৮ ও ২০ নভেম্বর
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১২:২৪
বরগুনার শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচারের জন্য মামলাটি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামি আরিয়ান শ্রাবণের জামিন বাতিল করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলার পরবর্তী তারিখ ২০ নভেম্বর ও শিশু আসামিদের পরবর্তী তারিখ ১৮ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার (৬ নভেম্বর) বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ও বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাটিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পৃথক পৃথকভাবে আদেশ দেন। এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘বুধবার রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখে বরগুনা জেলা কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়াও এ মামলার জামিনে থাকা আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে হাজির হয়। পরে আদালত প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের অভিযোগপত্রটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান। এছাড়াও আদালত এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি কামরুল হাসান সাইমুনকে অনার্স পরীক্ষায় দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩১ অক্টোবর শিশুদের বিচারের জন্য মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ জামিনে থাকা শিশু আসামি আরিয়ান শ্রাবণের জামিন বাতিল করেন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আগামী ১৮ নভেম্বর যশোর শিশু কিশোর সংশোধনাগার থেকে সব আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত বয়স্ক আসামি মুসা বন্ড পলাতক রয়েছে।

