লক্ষ্মীপুরে সুপারির ছড়াছড়ি

লক্ষ্মীপুরে সুপারির ছড়াছড়ি

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১২:৩২

দেশে সুপারি উত্পাদনের অন্যতম জেলা হিসেবে লক্ষ্মীপুরের রয়েছে আলাদা পরিচয়। এবারও লক্ষ্মীপুরে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। চারদিকেই সুপারির ছড়াছড়ি। সুপারি এ জেলায় অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত। তাই উত্পাদনও ব্যাপক। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবছর জেলায় উত্পাদিত সুপারির বাজার মূল্য ৩৫০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে কৃষিজমির পাশে কিংবা বাড়ির আঙিনায় সারি সারি সুপারি গাছের দৃশ্য মুগ্ধ হওয়ার মতই। এ ফসলটি এ অঞ্চলের মানুষকে মোটা অংকের অর্থের জোগান দিয়ে থাকে। এবার লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলায় ৬,৭৯৫ হেক্টর জমিতে সুপারি উত্পাদন হয়েছে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ৩৫০ কোটি টাকা। উত্পাদনের মৌসুম শুরু হলেই বিভিন্ন সুপারি বাগানের দাদনদাতা এবং সুপারি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এবারও ইতোমধ্যেই এদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সুপারির দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভাল। লক্ষ্মীপুরের সুপারি কেনা-বেচার জমজমাট মোকামগুলোর মধ্যে রয়েছে- সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর শহর, দালালবাজার, চররুহিতা, ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, দত্তপাড়া, জকসিন, রায়পুর উপজেলা শহর, হায়দরগঞ্জ বাজার, সোনাপুর, দেনায়েতপুর, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মীরগঞ্জ, রামগঞ্জ উপজেলা শহর, কাঞ্চনপুর বাজার, করপাড়া বাজার ইত্যাদি।

সুপারি ব্যবসায়ী মো. জামাল জানালেন, মৌসুমের শুরুতে প্রতি পোন (৮০টি) পাকা সুপারি ১৬০ থেকে  ১৮০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। বর্তমানে ৯০ থেকে ১২০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। তবে কাঁচা সুপারি কেনা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মৌসুমের শুরুতে কাঁচা সুপারি কেনা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। সুপারি চাষি সোহাগ হোসেন জানান, সুপারি চাষ খুবই সহজ। গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত একটু খেয়াল রাখতে হয়। এরপর কষ্ট নেই বললেই চলে। তাছাড়া প্রতি বছরই স্থানীয় বাজারে সুপারির ভালো দাম পাওয়া যায়। এখানকার প্রায় প্রত্যেক বাড়ির আঙ্গিনায় সুপারি বাগান রয়েছে বলেও জানান তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে এ ফুল পাকাপোক্ত সুপারিতে পরিণত হয়। মূলত কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ ভাগ নদী-নালা, খাল-ডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি পাকা হাউজে ভিজিয়ে রাখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ ভাগ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। সুপারিগাছ একবার রোপণ করলে তেমন কোনো পরিচর্যা ছাড়াই টানা ৩৫-৪০ বছর ফলন দেয়। চাহিদার তুলনায় উত্পাদন খরচ কম হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সুপারিতে বেশি আয় করা যায়। সুপারি বাগানে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা রোগ-বালাই কম থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা সুপারি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির ভালো দাম পেয়ে খুশি এখানকার চাষি, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে জেলার কোথাও সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় অনেক সময় কৃষকেরা সুপারির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading