রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার – জাতিসংঘের আদালতে মামলা দায়ের
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১২:১৮
রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মিয়ানমার। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের ‘দি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’ (আইসিজে)-এ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার এ মামলা করেছে ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়া। সোমবার একথা জানিয়েছেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর তামবাদউ। হেগ-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তামবাদউ বলেন, ‘জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় আমরা মাত্রই আইসিজে-তে আমাদের আবেদন জমা দিয়েছি। মিয়ানমারকে তার নিজ দেশের মানুষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আচরণের জন্য জবাবদিহি করানোই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের চোখের সামনে গণহত্যা ঘটবে আর আমরা তা দেখেও কিছু না করলে আমাদের প্রজন্মের জন্য তা খুবই লজ্জার ব্যাপার হবে।’ আফ্রিকার দেশটির দায়ের করা এ মামলার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা নিপীড়নের জন্য সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমার প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আইসিজে হলো- জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ; ১৯৪৫ সালে গঠনের পরের বছর থেকে এই আদালত কার্যকর। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে এ আদালত।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গাম্বিয়া তাদের ৪৬ পৃষ্ঠার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের আবাস ধ্বংসের কথা বলেছে। ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্টের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযানের নামে গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া। আত্মরক্ষায় তখন থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। গত দুই বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। তাদের কথায় উঠে আসে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ, যাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নালিশ গেছে। তার মধ্যেই জাতিসংঘের আদালতে মামলা করল গাম্বিয়া। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, যদি আইসিজে মামলাটি বিচারের জন্য গ্রহণ করে, তবে এটাই হবে গণহত্যার নিজস্ব তদন্তে আইসিজের প্রথম উদ্যোগ। এর আগে তদন্তের ক্ষেত্রে তারা অন্য সংস্থার ওপর নির্ভর করত। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’ (আইসিজে)-এর বিধি অনুসারে, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারে। সেই আইন অনুযায়ী, গাম্বিরয়ার মামলায় গণহত্যা প্রতিরোধ ও এর শাস্তি বিধানে ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষরিত কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। ১৯৫৬ সালে ওই ‘জেনোসাইড কনভেনশনে’ সই করেছিল মিয়ানমার। গাম্বিয়াও এ কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এই কনভেনশনের আওতায় দেশগুলো শুধু গণহত্যা থেকে বিরত থাকাই নয় বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা এবং এমন অপরাধের জন্য শাস্তি বিধানেও বাধ্য।

