মা দিবস যেভাবে এলো

মা দিবস যেভাবে এলো

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, আপডেট ১১৬:৫৩

মায়ের সঙ্গে সন্তানের ভালোবাসা রক্তের, হৃদয়ের, আবেগের, যুগ-যুগান্তরের। সেই মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানানোর জন্য আলাদা দিনের প্রয়োজন পড়ে না। তারপরও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষভাবে পালিত হয় মা দিবস। তবে সব দেশে একই দিনে দিবসটি উদযাপিত হয় না।

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালনের রীতি প্রচলিত। এবার মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পড়েছে ১০মে। দিনটিকে ঘিরে সন্তানরা নানা আয়োজনে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। কেউ মাকে ফুল দিচ্ছেন, কেউ শুভেচ্ছা কার্ড বা উপহার তুলে দিচ্ছেন হাতে। কোথাও কেক কাটা বা বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। আবার কেউ কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুধু বলছেন— “মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।”

তবে মা দিবস পালন নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেকে মনে করেন, মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা কোন একটি দিনের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর জন্য বিশেষ আয়োজনেরও প্রয়োজন নেই।

তর্ক-বিতর্কের মধ্যেও বিশ্বজুড়ে ঘটা করেই পালিত হচ্ছে মা দিবস। চলুন জেনে নেওয়া যাক দিবসটির ইতিহাস।

আধুনিক মা দিবসের প্রচলন শুরু হয় আমেরিকায়। দিবসটির প্রবক্তা ছিলেন আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস। তার মা অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ছিলেন একজন শান্তিবাদী সমাজকর্মী। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’।

১৯০৫ সালে অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন। পৃথিবীর সব মাকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিবস চালুর জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ শুরু করেন।
১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় আনা তার মায়ের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। একই বছর মার্কিন কংগ্রেস মা দিবসকে সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু আনা থেমে যাননি। তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। এ সময় আমেরিকায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।

অবশেষে ১৯১৪ সালে আনার দীর্ঘ প্রচেষ্টা সফল হয়। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

পরবর্তীতে আমেরিকার অনুসরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালনের রীতি চালু হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটিকে ঘিরে বাণিজ্যিকীকরণ শুরু হয়। এতে মা দিবসের মূল চেতনা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন আনা জার্ভিস। জীবনের শেষ দিকে তিনি দিবসটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading