যশোরে খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৪২
খেজুরগুড় খ্যাত যশোরের ৮ উপজেলায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। প্রকৃতিতে এখন শীতশীত ভাব বিরাজ করছে। বর্তমানে চলছে বসন্তকাল। বসন্তের পরেই আসবে শীতকাল। শীতকালের নতুন ধানের চাল দিয়ে বিভিন্ন প্রকার পিঠা পায়েস বানাতে খেজুরের রস ও গুড়ের কোন জুড়ি নেই। এ জেলার খেজুর গুড়ের সুনাম দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আগাম রস পাওয়ার জন্য জেলার গাছিরা খেজুর গাছ পরিচর্যা পুরোদমে শুরু করে দিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এ জেলার গুড়-পাটালির এতিহ্য দেশের সর্বত্র রয়েছে। বিদেশেও চলে যায় এ গুড়। জেলার খাজুরা গ্রামের অধিকাংশ মানুষ খেজুর গাছের রস সংগ্রহ এবং খেজুর গাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলার ৮টি উপজেলায় খেজুর গুড় তৈরি হলেও বাঘারপাড়া উপজেলা, মনিরামপুর, শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা এবং সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গুড় তৈরি হয়। জেলায় ২লক্ষাধিক খেজুরগাছ রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এসব গাছ হতে প্রতি বছর ১হাজার মেট্রিক টনের বেশি গুড় উত্পাদন হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিরেন্দ্র নাথ মজুমদার বাসসকে জানান, এ জেলায় আগের তুলনায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। সরকারিভাবে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন পতিত জমি, বাড়ির চারপাশে এবং চাষযোগ্য জমির আইলের উপর দিয়ে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ উত্সাহিত করা হচ্ছে। বাঘারপাড়া উপজেলার বেশ কয়েকজন চাষি এ প্রতিনিধিকে জানান, যশোরের এতিহ্য খেজুর গুড় বিলুপ্তির পথে। আগের মত এখন আর খেজুর গুড় পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না। খেজুরের গুড়ের এতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে নতুন করে খেজুর গাছ লাগানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। খাজুরা গ্রামের গাছি আব্দুল জলিল বলেন,নির্ভেজাল খেজুর গুড়ের চাহিদা অনেক বেশি। সঠিক মানের এককেজি গুড় দুশ’ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। খেজুর গুড়ের সঙ্গে নারিকেল মিশিয়ে তৈরি সুস্বাদু নারিকেলের পাটালি আড়াইশ’ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হয়ে থাকে। খেজুর গাছ সংরক্ষণে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতার দাবি করেন তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমদাদ হোসেন সেখ জানান, এ জেলায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে চলেছেন।

