সড়কে বাস নামছে না, দুর্ভোগও কাটছে না

সড়কে বাস নামছে না, দুর্ভোগও কাটছে না

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৯ নভেম্বর ২০১৯ । আপডেট ১৩:১৪

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করে বাস চলাচল বন্ধের দ্বিতীয় দিনে আরও নতুন এলাকা যোগ হয়েছে।

খুলনা, রাজশাহী ও শেরপুরের পর মঙ্গলবার ময়মনসিংহ, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতেও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। ফলে সড়কে নেমে দুর্ভোগে পড়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

গাজীপুরে পরিবহন শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকালে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করলেও দুই ঘণ্টা পর উঠে যায়।

সোমবার সকাল থেকে খুলনা অঞ্চল, রাজশাহী ও শেরপুরে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, মঙ্গলবারও সেখানে বাস চলেনি।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট ডাকেননি দাবি করে বলেছেন, নতুন কঠোর আইনে ‘ভীত হয়ে’ চালক-শ্রমিকরা বাস চালাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

এদিকে নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন।  

মঙ্গলবার সকাল থেকে পিরোজপুরের সঙ্গে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা।

পিরোজপুর জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। কোনো কারণে দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে নতুন আইনে চালকদের মৃত্যুদণ্ড এবং আহত হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

“আমাদের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই এবং বাস চালিয়ে আমরা জেলখানায় যেতে চাই না। এ কারণেই নতুন পরিবহন আইন সংস্কারের দাবি করছে শ্রমিকরা।”

বাস যাত্রী মিথিলা আক্তার বলেন, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পরেছেন তার মতো অনেকেই।

অন্যদিকে চলাচলের মাধ্যম হিসেবে যাত্রীরা বেছে নিচ্ছেন ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। দূরের যাত্রীরা ভিড় করছে বিআরটিসির কাউন্টারগুলোতে।

সকালে ঝালকাঠি থেকে ১৭টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা।

ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাদুর চৌধুরী বলেন, বাসের ড্রাইভার ও তাদের সহযোগীরা এ ধর্মঘট ডেকেছে। তবে এটা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নয়। আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহণ আইন নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ডাকা হয়েছিল।

“আমরা সাংগঠনিকভাবে ওই সভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছিলাম। তবে চালক ও তাদের সহযোগীদের হঠাৎ ধর্মঘটের এ কর্মসূচি আপাতত আমরা সমর্থন করি না।”

বিএম কলেজে স্নাতকোত্তর (প্রিলিমিনারি) শ্রেণিতে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হতে বরিশাল যাওয়ার জন্য জেলা বাস স্ট্যান্ডে আসেন তন্নী আক্তার। তিনি বলেন, “এসে দেখি ঝালকাঠি-বরিশাল বাস ছাড়ছে না। এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে যেতে হবে। বাড়তি টাকার সাথে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।” শুধু শিক্ষার্থীই নন, ঝালকাঠি থেকে বরিশালগামী অসংখ্য যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল কিংবা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্র,  টেম্পু এবং দূরপাল্লার বাস স্বাভাবিকভাবে চলছে।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তবে্যের দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading