যে অভ্যাসগুলো জীবনের আয়ু কমায়

যে অভ্যাসগুলো জীবনের আয়ু কমায়

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২০ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১২:১০

মানুষ অভ্যাসের দাস- হোক না সেটা খারাপ কিংবা ভালো। ভালো অভ্যাস যেমন জীবনকে উন্নত করে, তেমনি মন্দ অভ্যাসগুলো জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন অনেক বাজে অভ্যাস রয়েছে যা আপনার স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জীবনকালের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ফেলে। এখানে আপনার আয়ু কমাতে পারে এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। মধ্যরাতে স্ন্যাকস খাওয়া: মধ্যরাতে মিষ্ট বা লবণাক্ত স্ন্যাকস জাতীয় খাবার হূদরোগ অথবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোর গবেষণা অনুসারে। গবেষণা লেখক রুদ বিজস বলেন, ‘এই অভ্যাস হূদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ রাতের খাবার খাওয়ার পর ট্রাইগ্লাইসেরাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।’ তিনি যোগ করেন, ‘ট্রাইগ্লাইসেরাইড হচ্ছে বিপজ্জনক রক্ত চর্বি যা ফ্যাটি টিস্যুতে (বেশিরভাগই আপনার পেটের চারপাশে) জমা হয় এবং আপনি এসব থেকে সহজে মুক্ত হতে পারবেন না।’ অত্যধিক ভিডিও দেখা: রাত জেগে টিভি বা নেটফ্লিক্স বা ইউটিউব বা অন্যান্য উপায়ে ভিডিও দেখা আপনার ঘুমের পরিধি কমিয়ে ফেলে। একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ অত্যধিক ভিডিও দেখেছিল তাদের নিম্ন স্লিপ কোয়ালিটিতে ভোগার সম্ভাবনা যারা ভিডিও দেখায় আসক্ত ছিল না তাদের তুলনায় ৯৮ শতাংশ বেশি ছিল। দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিরাতে সাত ঘণ্টা বা আরো বেশি সময় ঘুমাতে পরামর্শ দিচ্ছে। লবণের প্রতি আসক্তি: যদি আপনি প্রত্যেক খাবারেই লবণ খান, তাহলে আপনি আপনার স্বাস্থ্যকে বিপদের মধ্যে রাখছেন, কারণ ডায়েট-সম্পর্কিত মৃত্যুর ৯.৫ শতাংশই ঘটিয়ে থাকে অত্যধিক লবণাক্ত খাবার, জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে। অত্যধিক লবণ হার্ট অথবা কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গবেষণায় হূদরোগ, স্ট্রোক ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে মৃত্যুর ৪৫.৪ শতাংশের সঙ্গে অত্যধিক লবণাক্ত খাবারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ভালোভাবে হাত না ধোয়া: সঠিকভাবে হাত ধোয়া না হলে আপনার হাতে জীবাণু লেগে থাকবে। অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে অনেক খাদ্যবাহিত অসুস্থতা ছড়ায়, কিন্তু সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া ডায়রিয়া রোগ সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে ফেলে, আমেরিকার সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে। সঠিকভাবে হাত ধোয়া এ ধরনের বিপজ্জনক শ্বাসপ্রশ্বাসীয় অসুস্থতা ছড়ানো প্রতিরোধ করতে পারে। ফ্লসিং এড়িয়ে যাওয়া: আমরা জানি যে, মাড়ির রোগ মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, কিন্তু নিয়মিত ফ্লসিং আপনার আয়ু ছয় বছর বাড়াতে পারে, বলেন নিউ ইয়র্ক সিটির ডেন্টিস্ট সাউল প্রেসনার। তিনি যোগ করেন, ‘অনুমান করা হয় যে, ফ্লসিং মুখের মাইক্রোঅর্গানিজম বা জীবাণু হ্রাস করে, এভাবে এটি মুখের প্রদাহ কমায়। মাড়িতে প্রদাহ যত কম হবে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা তত কমে যাবে- এর ফলে মুখ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস রক্তপ্রবাহে প্রবেশের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।’ নখ কামড়ানো: নখ কামড়ানো কি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে? এটি শুধু বাজে অভ্যাসই নয়, নখ কামড়ানোর মাধ্যমে ওরাল ব্যাকটেরিয়া (যেমন- এইকেনেলা করোডেনস) অথবা স্কিন ব্যাকটেরিয়া (যেমন- স্ট্রেপটোকক্কাস অথবা স্ট্যাফাইলোকক্কাস) ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে, বলেন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত জর্জ ওয়াশিংটন স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড হসপিটালের ডার্মাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান। তিনি যোগ করেন, ‘নখ কামড়ানোর ফলে আপনার প্যারোনাইশিয়া (নেইল ফোল্ডের চারপাশে ইনফেকশন, যেখানে ফোলা ও ব্যথা সৃষ্টি হয়), ফেলন (ফিঙ্গার প্যাডের স্ট্রেপ ইনফেকশন, যা অতি বেদনাদায়ক) এবং অন্যান্য ইনফেকশন হতে পারে।

সতর্কতা: লেখাটি মূলতঃ প্রাথমিক তথ্য ভিত্তিক। চিকিত্সা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে রেজিস্টার্ড চিকিত্সক/পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত্। 

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading