ওসি মোয়াজ্জেমের মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

ওসি মোয়াজ্জেমের মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২১ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৮

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের সাজা হবে কি না- সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ২৮ নভেম্বর। বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ওই দিন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। গতকাল বুধবার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ঠিক করে দেন।  সাইবার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নজরুল ইসলাম শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন। আদালতের পেশকার শামীম আল মামুন জানান, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১২ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ১২ নভেম্বর। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পিপি নজরুল ইসলাম শামীম। আর বাদীপক্ষে যুক্তিতর্ক আদালতে তুলে ধরেন বিভূতিভূষণ সরকার। আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। গত ১৭ জুলাই সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সেদিন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আদালতের কাছে দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। প্রসঙ্গত, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আদালত তা আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেন। এর ২০ দিনের মাথায় গত ১৬ জুন মোয়াজ্জেম হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ১০ এপ্রিল সে ঢাকায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। থানার তত্কালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সেসময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ আনা হয় মামলায়। এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই মামলাটি উচ্চ আদালতে শুনানির জন্য রয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading